‘বন্যা প্রতিবছর ভয়াবহ চেহারা নিয়ে হাজির হচ্ছে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩৮, আগস্ট ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৯, আগস্ট ০৯, ২০২০

 

বক্তব্য রাখছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

বন্যা প্রতিবছর দেশের মানুষের জন্য ভয়াবহ চেহারা নিয়ে হাজির হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা বলেন, বাংলাদেশে যখন পানির দরকার তখন থাকে খরা, আর যখন দরকার নেই— তখন ভারত সব গেট খুলে দেয়। এতে প্রতিবছর বন্যা দেশের মানুষের জন্য ভয়াবহ চেহারা নিয়ে হাজির হচ্ছে।

রবিবার  (৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘খরাকালে পোড়াও, বর্ষাকালে ভাসাও’ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের এই নীতি প্রয়োগের প্রতিবাদে সভার আয়োজন করে  ভাসানী অনুসারী পরিষদ।

সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিদিন ভারত সীমান্তে লোক মারছে, আমাদের কোনও আওয়াজ নেই। আমাদের মন্ত্রীরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের রক্তের সম্পর্ক। আমাদের পরিচ্ছন্ন রক্ত দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে রমনার কালি মন্দির পাকিস্তানিরা ভেঙে দিয়েছিলে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটাকে ঢাকার বাইরে নিয়ে বড় আকারে এ মন্দির তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সংখ্যালঘুদের আপত্তিতে তা সরানো হয়নি। এটা ঢাকার নওয়াবদের দান করা জায়গা। এর থেকে তাদের সহনশীলতা কিছুটা হলেও শেখা উচিত।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমাদের এখানে নিয়মিত পানির প্রবাহ না থাকার কারণে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যায়। তখন নদীগুলো পানি ধারণ করার ক্ষমতা রাখে না। ফলে সব পানি সমতল ভূমিতে ডুকে পড়ে। এতে মানুষ ব্যাপকহারে পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তখন বন্যা মানুষের জন্য একটা ভয়াবহ চেহারা নিয়ে হাজির হয়। এটা হচ্ছে এই সরকারগুলোর কারণে, যারা অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে নদীর ওপর হস্তক্ষেপ সৃষ্টি করে। এর জন্য বিশেষভাবে দায়ী ভারত সরকার। যারা অন্যায়ভাবে একতরফা পানি প্রত্যাহার করছে এবং বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে।’

ভারত কেন এই অবস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে চালাতে পারছে তার প্রশ্ন তুলে সাকি বলেন, ‘ভারতের চির শত্রু পাকিস্তানের সঙ্গে তার অভিন্ন নদীগুলোতেও একটা মোটামুটি ন্যায্য চুক্তি করে চলতে হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে ক্ষেত্রে তারা কেন একতরফা চুক্তি করতে পারে, কারণ এখানে শুরু থেকে এমন সরকার আছে— যারা ভারতের তাবেদারি করে চলেন।’

ভাসানী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, বিপ্লবি ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, বাসদ নেতা বজলুর রশিদ, সাপ্তাহিক জয়যাত্রার নির্বাহী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম  মিন্টু, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য আক্তার হোসেন প্রমুখ।

 

/এএইচআর/এপিএইচ/

লাইভ

টপ