রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে মরিয়া সরকার: গণসংহতি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৪ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:৫১আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:৫৩


গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্মেলন ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতেই সারাদেশে প্রতিবাদের পরও সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সরকার মরিয়া বলে করেছেন গণসংহতির নেতারা। তারা বলেন, দেশে চলমান অপরাজনীতির কারণেই সারাদেশে দখল-লুণ্ঠন নৈরাজ্য, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিস্তার ঘটেছে। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ করেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘গণসংহতি আন্দোলন জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি গণতান্ত্রিক এবং উৎপাদনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। জনপ্রতিনিধিত্বহীন এই সরকার ভারতের স্বার্থে, চীনের স্বার্থে, মার্কিন স্বার্থে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। আজ সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য সারাদেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হলেও আওয়ামী লীগ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মরিয়া ভাব দেখাচ্ছে গদি টিকিয়ে রাখার জন্যই। এই অপরাজনীতির ফল হলো সারাদেশে দখল-লুণ্ঠন নৈরাজ্য, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিস্তার। শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাল্টা রাজনীতি দিয়েই এই রাজনীতির মোকাবিলা করতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ‘সমাজের সর্বস্তর থেকে আজ গণতন্ত্র নির্বাসিত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে দুর্নীতি আর ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার স্বার্থে। শিক্ষাখাতে এমন ভয়াবহ অরাজকতা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। কৃষি-শিল্পসহ উৎপাদনশীল খাতগুলো বিপর্যস্ত। প্রগতিশীল শক্তির বিকাশ ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করা যাবে না।’
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকার দুর্নীতির যে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, তার তহবিল জোগানোর জন্য দরিদ্র মানুষের ওপর কর চাপিয়ে দিচ্ছে। সুন্দরবনকে রক্ষায় গোটা জাতির মাঝে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, তাকে সরকার মোকাবিলা করছে দমন-পীড়ন আর প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে। যুক্তির কাছে পরাজিত হয়েছে বলেই মিথ্যাচার আর শক্তিপ্রদর্শন তাদের অবলম্বন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এদেশকে ভারত বা চীনের বাতিল প্রযুক্তির ভাগাড়ে পরিণত করতে দেবে না।’
ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক আহমেদ কামাল বলেন, ‘বিশ্বায়ন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও পুঁজির আগ্রাসনের মুখে দাঁড়িয়ে প্রগতিশীল শক্তিগুলোকেই নতুন রাজনীতি ও পথনির্দেশনা নির্ধারণ করতে হবে।’
অধ্যাপক নাসিম আখতার হুসাইন বলেন, ‘গণসংহতি আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষার যে রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে, সেটাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোনও বাস্তবায়ন লুটেরা এই রাজনৈতিক দলগুলো করেনি। বরং মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করেছে নিজেদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থে।’
গণতান্ত্রিক বামমোর্চার সমন্বয়ক ও বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী গণসংহতি আন্দোলনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন কেবল বর্তমান স্বৈরাচারী দুঃশাসন থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে পারে। ’
আবদুস সালাম তার স্বাগত বক্তব্যে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘গণসংহতি আন্দোলন লুটেরা দখলদারদের হাত থেকে জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাবে। ’
জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অধিবেশনের সূচনা হয়। বিকাল চারটা থেকে ইনজিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শুরু হয়েছে সম্মেলনের সাংগঠনিক অধিবেশন। এই অধিবেশন অধিবেশন বিরতিসহ চলবে আগামীকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত। বিভিন্ন জেলা, থানা ও শাখার প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকরা এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন। তাদের মতামত ও রায়ের ভিত্তিতে একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে গণসংহতি আন্দোলনে ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র ও দলীয় প্রতীক অনুমোদন করা হবে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করা হবে।
/এসটিএস/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের