বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দমন-পীড়ন উপেক্ষা করেই বামপন্থীরা আন্দোলন এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, ‘‘হরতালের আগেই সিপিবি অফিসে হানা দিয়েছে পুলিশ। সারা দেশে হামলা-নির্যাতন, গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ‘সনিক ক্যানন’ (শব্দ কামান) ব্যবহার করেছে। কিন্তু হামলা-নির্যাতন করে আন্দোলন থামানো যাবে না। হরতাল করেই বামপন্থীরা থেমে থাকবে না। বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’’ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবিতে সিপিবি-বাসদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘সরকারের সব অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত বামপন্থীরা রুখে দেবে। দমন-পীড়ন উপেক্ষা করেই বামপন্থীরা আন্দোলন এগিয়ে নেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বামপন্থীরা হরতাল, আন্দোলন করছে জনগণের স্বার্থে। আমাদের আন্দোলন বুর্জোয়া দলগুলোর ক্ষমতার কামড়াকামড়ির জন্য নয়। বিএনপি বলছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে তারাও দাম বাড়িয়েছে।’
সিপিবি সভাপতি আরও বলেন, আবার আওয়ামী লীগও বিরোধী দলে থাকলে কখনও কখনও দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করে। ক্ষমতার বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বুর্জোয়া দলগুলো ক্ষমতার সংকীর্ণ স্বার্থে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে কখনও কখনও জনগণের পক্ষে কথা বলে। আসলে তাদের অবস্থান জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে। জনগণের স্বার্থে আওয়ামী লীগ, বিএনপিকে চিরতরে বিরোধী দলে পরিণত করতে হবে। বামপন্থীদের ক্ষমতায় বসাতে হবে।’
সমাবেশ থেকে বিদ্যুৎ ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবিতে আগামী ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় সচিবালয়ের সামনে এবং সারা দেশে ডিসি অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরনো পল্টনে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কমরেড মোশারফ হোসেন নান্নু।
সমাবেশ পরিচালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আকবর আলী খান।







