সারা দেশে বিএনপির সভা-সমাবেশে হামলা এবং সর্বশেষ ঢাকার বনানীতে এবং কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে দলটির সিনিয়র ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। তারা মনে করেন, এসব হামলা করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে ন্যায়নিষ্ঠ দাবি থেকে সরানো যাবে না, বরং সরকারকেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে।
রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পৃথক পৃথক বিবৃতিতে গণতন্ত্র মঞ্চ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, নাগরিক ঐক্যের নেতারা এসব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
জোনায়েদ সাকির সই করা গণতন্ত্র মঞ্চের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নোয়াখালী থেকে কর্মসূচি করে ফেরার পথে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বিএনপির নেতা বরকতউল্লাহ বুলুর ওপরে হামলা এবং তাকে ও তার স্ত্রীকে আহত করা এক নজিরবিহীন ঘটনা। পুলিশের গুলিতে নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণে ঢাকার বনানীতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মতো কর্মসূচিতেও হামলা করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তাবিথ আউয়ালসহ নেতাকর্মীদের আহত করা স্পষ্ট করছে— সরকার পুরোপুরি উন্মত্ত হয়ে গেছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সারা দেশে বিএনপির সভা-সমাবেশ ও নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়িতে হামলা, বিভিন্ন জেলায় গণতন্ত্র মঞ্চের সভা সমাবেশ ও শরিক বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের ওপরে হামলা-মামলা, বিভিন্ন স্থানে বামপন্থী দলগুলোর কর্মসূচিতে হামলা, সরকারের মরিয়া অবস্থার প্রকাশ। সারা দেশে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর গুণ্ডাবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে এই মরিয়া আক্রমণে কেবল হামলা-মারপিট-ভাঙচুর-লুটপাটই নয়, এমনকি কুপিয়ে ও গুলিবর্ষণ করেও হত্যা করছে। জনসম্মতিহীন সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভীত হয়ে পুরোপুরি দলীয় গুণ্ডাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে। পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ায় পুরোপুরি উন্মাদ হয়ে গেছে।’
‘ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে সরকার দলীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশি হামলা-নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন’ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘সভা-সমাবেশ, মিছিল, ধর্মঘট করা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে দুর্নীতি-লুটপাট ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন কায়েম করেছে। দ্রব্যমূল্যসহ মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনদুর্ভোগ অতীতের সব সীমা পেরিয়েছে। সরকার মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে মুনাফাখোর সিন্ডিকেটের স্বার্থই রক্ষা করছে।’
ফিরোজ বলেন, ‘দমন-পীড়ন, নির্যাতন, হামলা-মামলা করে অতীতে কোন স্বৈরশাসক ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, বর্তমান সরকারও পারবে না।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘প্রকাশ্যে পুলিশের উপস্থিতিতে সরকার দলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিরোধীদের ওপর হামলা আক্রমণ করলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিরোধী নেতা কর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এসব তৎপরতা সরকারের দমনমূলক স্বৈরতান্ত্রিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। এসব করে শেষ রক্ষা করা যাবে না।’
‘বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এবং ঢাকার বনানীতে তাবিথ আউয়ালসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তার মত, ‘এই হামলা প্রমাণ করে সরকার অবৈধ ক্ষমতা হারানোর ভয়ে কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বরকত উল্লাহ বুলুর ওপর সস্ত্রীক নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ছিলেন না। চায়ের দোকানে ঢুকে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের ক্যাডাররা।’
মান্না উল্লেখ করেন, ‘বনানীতে মোমবাতি প্রজ্জ্বালনের মতো কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে তাবিথ আউয়ালসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকার এবং সরকারি দল যে কতটা সন্ত্রস্ত, তা এই দুটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা থেকে বোঝা যায়। তারা হামলা, মামলা, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এবং জনগণকে ভয় দেখিয়ে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতো আরেকটি প্রহসনের মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চায়।’








