রোজার পরে একটা কার্যকর আন্দোলন করা হবে উল্লেখ করে নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, রোজার পরে আমরা কঠোর আন্দোলন করবো। ওই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা হবে।
বুধবার (৫ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘একজন জাকির হোসেন এবং বাংলাদেশ সরকার’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, রমজান মাসে আন্দোলন মানুষকে কষ্ট দেয়। আমি বলছি, কষ্ট দেওয়ার জন্য যদি কোনও মামলা হয় তাহলে আপনার নামে আগে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই যে বিএনপিকে নির্বাচন কমিশন ডেকেছে তারা নাকি সংলাপের জন্য ডাকেনি, ডেকেছে তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। এই সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাবো না।’
বঙ্গবাজারের আগুনে হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে মন্তব্য করে মান্না বলেন, ‘গতকাল আমরা গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে বঙ্গবাজার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বঙ্গবাজারে কেউ কেউ বলছে, আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ডলার আগামীতে ১৫০-এ দাঁড়াবে। জিনিসের দাম বেড়েছে কিন্তু মানুষের বেতন বাড়েনি। আজ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একজন জাকির হোসেন বলেছেন, আমরা মাছ-মাংসের স্বাধীনতা চাই।’
মান্না বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, যদি পেটে ভাত না যায় তাহলে সেটাকে স্বাধীনতা বলে না। আমরা দেখতে চাই, অর্থনৈতিক কাজে জনগণের কতটা কল্যাণ হয়। আমরা বলেছিলাম, মানব উন্নয়ন ছাড়া কোনও উন্নয়ন কাজে লাগে না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এখান থেকে শুরু হয় লুটপাট আর দুর্নীতি। এ সরকারের হাতে কোনোকিছুই নিরাপদ নয়। এ সরকারের হাতে ভোটও নিরাপদ নয়। সরকারের অবহেলা আছে এই বঙ্গবাজার নিয়ে।’
কেন সুলতানা জেসমিনের পরিবারকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না প্রশ্ন রেখে মান্না বলেন, ‘বলা হচ্ছে মাথায় রক্তক্ষরণে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যু হয়েছে। পিএম রিপোর্ট বানানো যায় এবং ওই রিপোর্টটা তারা বানিয়েছে।’
সেমিনারে আরও ছিলেন– নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোমিনুল ইসলাম, প্রধান উপদেষ্টা এস এম আকরাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিব আনোয়ার প্রমুখ।








