আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেখানে ফিলিস্তিনে শিশু হত্যার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার তখন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি দিয়েছে তা দ্বিধান্বিত বিবৃতি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে এসব কথা বলেন তিনি।
ফিলিস্তিনের জনগণের উপর ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ, নির্বিচারে ফিলিস্তিনি জনগণকে হত্যা বন্ধ ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই প্রতিবাদী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজিত হয়।
রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের সরকার যেখানে সব সময় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেখানে ফিলিস্তিনি শিশু হত্যার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার তখন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি দিয়েছে তা দ্বিধান্বিত বিবৃতি। এই দ্বিধান্বিত সমর্থনের কোনও জায়গা নেই। এখানে দুমুখো নীতির কোনও জায়গা নেই। তাই আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো অতীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে শুধু গাজা উপত্যকা নয়, সমস্ত ফিলিস্তিনকে লক্ষ করে আমাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন, ওষুধ পাঠিয়েছেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছেন; এখনও সেভাবে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাবেন।
তিনি বলেন, আমরা যখন এখানে বক্তৃতা করছি তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছে হামাসের সকল সদস্যকে হত্যা করা ছাড়া তারা ফিলিস্তিনে যুদ্ধ থামাবে না। এর আগে তিনি (নেতানিয়াহু) ঘোষণা করেছিলেন গাজাকে অবরুদ্ধ করে নির্জন দ্বীপে পরিণত করবেন। আমরা জানি তারা যে অজুহাত দিচ্ছে তা হলো হামাসের আকস্মিক আক্রমণ। আমি মনে করি হামাস যে অভিযান চালিয়েছে এটা তাদের আত্মরক্ষার অভিযান। আমরাও কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে আমাদের জমি উদ্ধার করতে অভিযান চালাতাম। আমরাও কিন্তু আমাদের ভূখণ্ডকে দখলদার মুক্ত করতে লড়াই করতাম। তখনও কিন্তু আমাদেরকে তারা বিচ্ছু, জঙ্গি, রাষ্ট্রদ্রোহী, ধর্মদ্রোহী বলতো।
আজকে একইভাবে হামাসকে কেন্দ্র করে বলা হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা সন্ত্রাসী। বরং তারা তাদের মাতৃভূমি রক্ষার জন্য দখলকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধের দুটি পক্ষকে একই মাপে মাপা যাবে না। কারণ একটি হচ্ছে আক্রান্ত আরেকটি হচ্ছে আক্রমণকারী। আজকে ফিলিস্তিনে প্রতিদিন শিশু ও মেয়েদের হত্যা করা হচ্ছে। তাদের বাড়ি-ঘর দখল করা করা হয়েছে, তাদের বসত থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমি বলতে চাই স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া এই সমস্যার কোনও সমাধান হবে না। আজকে এই স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শান্তি পরিষদ যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তির সপক্ষে। শান্তি মানে ন্যায়ের শান্তি, অধিকারের শান্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণের শান্তি।
বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, আমরা প্রতিদিনই দেখি নিরীহ ফিলিস্তিনি শিশু ও নারীদের হত্যা করা হচ্ছে। পবিত্র আল আকসা মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসল্লিদের নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। প্রত্যেক মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে। তাই তারা (ফিলিস্তিনি) আজকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছে।
কিন্তু আজকে মানবতার ফেরিওয়ালা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলে দিচ্ছে। অথচ তাদের দায়িত্ব ছিল মানবতার পক্ষে এসে কথা বলার, অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান করার। পক্ষান্তরে তারা অস্ত্র এবং রণতরী পাঠিয়ে এই আগুনকে আরও দাউ দাউ করে জ্বালানোর চক্রান্ত করছে। তাই আমরা আজকে বলতে চাই— অত্যাচার-নির্যাতন করে একটি জাতিকে যে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার চক্রান্ত হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বাংলার জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি৷
এ সময় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি শাহাদাত হোসেন, অধ্যাপক মাহফুজা খানম, ন্যাপ নেতা ইসমাইল হোসেন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে তারা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল করে পল্টন মোড়ে গিয়ে তা শেষ করেন।








