‘সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে জনগণ তা মানতে বাধ্য নয়’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৭:৩০আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৭:৩০

নির্বাচন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়, কোনোভাবেই সেটাকে জনগণ মানতে বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

রবিবার  (১৭ ডিসেম্বর)  জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে’ অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘এদেশের মানুষ ও বিরোধী দলগুলো নির্বাচনকে একটা তামাশার নির্বাচন বলে মনে করে। একতরফা একটা দখলদারিত্বের ভাগ-বাটোয়ারার নির্বাচন মনে করে। এ নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অধিকার দেশের প্রত্যেকটা নাগরিকের আছে। বিরোধী দলগুলোসহ প্রত্যেকটা দলের সাংবিধানিকভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকার আছে। নির্বাচন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি জনগণের এই সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়, কোনোভাবেই সেটাকে জনগণ মানতে বাধ্য নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলতে চাই— আপনারা যে অসাংবিধানিক বেআইনি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন, এটা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।’

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,  ‘আজকে ১৭ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার শেষ দিন। আমরা গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে বলতে চাই— যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, দেশকে রক্ষা করার জন্য আপনাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সিলেটে গিয়ে তার কর্মীদের কাছ থেকে শুনেছেন— ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসতে চাচ্ছে না।  তখন তিনি বলেছেন, দরকার হলে ভোটারদের হাতে-পায়ে ধরে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। যে দেশের মানুষ ভোটকে উৎসব মনে করে— সেই দেশে আজকে তারা (আওয়ামী লীগ) মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। জনগণকে এখন তারা আবার হাতে-পায়ে ধরে ভোটকেন্দ্রে আনতে চেষ্টা করছে।’

সাইফুল হক বলেন, ‘আমি আশঙ্কা ,করছি এভাবে  যদি চলতে থাকে, তাহলে পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মানুষকে গ্রেফতার করে হয়তো ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা  করতে পারে। এরইমধ্যে মানুষ এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘২০১৪ সালের পর থেকে  বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং তাদের শাসন। ১৪ সালে মানুষের ভোটের অধিকার,গণতন্ত্র এবং নাগরিকের মর্যাদা কেড়ে নিয়ে সরকার স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, জমিদারি শাসন কায়েম করেছে। এরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার চেতনার সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে এখন হাজির হয়েছে। মন্ত্রীরা ঘোষণা করেছেন, বিএনপি থেকে নাকি শত শত লোককে তারা ভাগিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন। কিন্তু  তারা কাউকে ভাগিয়ে আনতে পারেনি।’ 

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন,  ‘বাংলাদেশে এই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে সরকার একটা ডামি নির্বাচন করতে যাচ্ছে। আগামী ৭ তারিখে সরকার একটা ডামি নির্বাচন করতে যাচ্ছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এটা প্রতিহত করতে হবে। নির্বাচনের আগে পর্যন্ত আমরা আমাদের লড়াই আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘কাজী হাবিবুল আওয়াল এই দেশের নব্য রাজাকার। আমরা তার বিচার এই দেশেই করবো।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-র সাধারণ সম্পাদক শহদি উদ্দীন মাহমুদ স্বপনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন—  নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, জেএসডির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কে এম জাবির, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন এবং নাগরিক ঐক্যের দফতর সম্পাদক মুহিদুজ্জামান মুহিদ।

/এএজে/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
শাসক শ্রেণি শ্রমিকের ভোট চায়, অধিকার দিতে চায় না
জাতীয় ঐকমত্য ও গণভোটের বৈধতা নিয়ে মুখোমুখি সাকি-আখতার
জিডিপি তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: জোনায়েদ সাকি
সর্বশেষ খবর
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি