বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রবল আকার ধারণ করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবনায় তা নিয়ে বড় ভাবনা নেই। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হয়েছে। অথচ গত ৫ মাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হলো বৈষম্য নিয়ে কোনও আলোচনা নাই।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন৷
সাইফুল হক বলেন, অর্থনৈতিক যে বৈষম্য তা নিয়ে কার্যত কোনও আলোচনা হয় নাই। শুধু ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রতি বছরের মতো এবারও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এবার বলা হয়েছে, ১৬ বিলিয়ন ডলার আওয়ামী লীগ আমলে দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্বৃত্ত অর্থনীতি যদি রূপান্তর করা না যায়, যদি পরিবর্তন করা না যায়, তাহলে ওপরে ওপরে রাজনৈতিক সংস্কার দিয়ে বেশি দূর যাওয়া যাবে না। অর্থনীতির দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে রাজনীতির যে নেক্সাস এটা পরিবর্তন করা মনোযোগের ভেতরে নেই। আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা শুভঙ্করের ফাঁকির মতো।
অর্থনৈতিক বৈষম্যের পাশাপাশি সামাজিক, জাতিগত ও ভাষার যে বৈষম্য কিংবা বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাথে পাহাড় বা সমতলের নানা জনগোষ্ঠীর বৈষম্যগুলো নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে তাৎপর্যপূর্ণ কোনও আলোচনা হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন সাইফুল হক।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে আমি বলি— ছাত্র, শ্রমিক, জনতার গণঅভ্যুত্থান৷ ছাত্রদের পরে কেউ যদি প্রাণ দিয়ে থাকেন, তারা হলেন এই মেহনতি মানুষ৷ দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা এখন সরকারের কাছ থেকে যোজন যোজন দূরে৷ এ সরকারে তাদের কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই৷ উপরন্তু, তাদের কোনও ভাষা, তাদের কোনও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আপত্তি শোনার মতো সময় এই সরকারের গত পাঁচ মাসে হয় নাই৷
রবীন্দ্রনাথ সরেণের স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— ‘নিজেরা করি’র নির্বাহী পরিচালক খুশি কবীর, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি বিচিত্রা তির্কি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদুল সুমন৷









