জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব উইং জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক নৃশংসতার শিকার পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী সোহাগ। রাজধানী থেকে মফস্বল পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনাকে অবমাননা করছে। যে কারণে ৫ আগস্টের পর থেকে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
শনিবার (১২ জুলাই) বিকালে বাংলামোটরে জাতীয় যুবশক্তির অস্থায়ী কার্যালয়ে সারা দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সহিংসতা বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তারিক অভিযোগ করে বলেন, চাঁদাবাজি ও অন্তঃকোন্দলের জেরে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী সোহাগকে যুবদলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। যা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট এবং ন্যায়ের অভাবে নিয়ন্ত্রণহীন সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ। শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এটি সমগ্র দেশ, সমাজ ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ওপর ভয়াবহ আঘাত। সোহাগকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় অপরাধীদের বিন্দুমাত্র ভয় বা বিচারবোধের তোয়াক্কা নেই। এটি রাজনৈতিক মদদপুষ্ট নৃশংসতার নিখুঁত উদাহরণ।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে যেভাবে যুবদলের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে—তা নতুন নয়। বিএনপি শাসনামলে বিশেষ করে ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত ছাত্রদল-যুবদলকে ব্যবহার করে যে ভয়ংকর দখল ও দমনমূলক রাজনীতি চলছিল, এ হত্যাকাণ্ড তারই সম্প্রসারিত চিত্র।
জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক বলেন, জনমনে গভীর আশঙ্কা জন্মেছে। এখনই সহিংসতার লাগাম টানতে না পারলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হতে পারে। এ বেদনাদায়ক সন্ত্রাস গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্যও ভয়াবহ অশনিসংকেত।
বিএনপির সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক ভেঙে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় যুবশক্তির সদস্য সচিব ডা. জাহেদুল ইসলাম ও মুখ্য সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ আসাদুল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা।









