রাজধানীর মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার ঘটনা মিডিয়ার কাছে থাকলেও তারা প্রকাশ করেনি— এমন অভিযোগ তুলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেছেন, যুবদল নেতা কর্তৃক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে দুইদিন আগে। কিন্তু প্রকাশিত হয়েছে গতকাল (শুক্রবার)। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার কাছে এই ভিডিও চিত্র ছিল। কিন্তু তারা ভিডিও প্রকাশ করেনি। হাসিনা চলে গেলেও মিডিয়াগুলো কোল পরিবর্তন করে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের কোলে স্থান করে নিয়েছে।
শনিবার (১২ জুলাই) সোহাগ হত্যার বিচার ও সারাদেশে বিদ্যমান চাঁদাবাজি, দখলদারি, হামলা ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে মশাল মিছিল ও সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। মিছিলটি রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
মশাল মিছিলে ‘চাঁদাবাজদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘চাঁদাবাজদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও,’ ‘দালালি না রাজপথ? রাজপথ রাজপথ,’ ‘যেই হাত মানুষ মারে, সেই হাত ভেঙে দাও,’ ‘আবু সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, ইন্টেরিম সরকারের আমলে পুলিশি ব্যবস্থা ও জননিরাপত্তা দেখে মনে হয় এটি শেখ হাসিনার আমলের পুলিশ। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে পোস্ট দেয় “দেশকে প্রস্তর যুগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।” বাংলাদেশকে নিয়ে যারা বেশি ভাবে তার মধ্যে তিনি একজন। তিনি সরকারে বসে থেকে কীভাবে এমন কথা বলেন। আপনাদের বাধা কোথায়? আমাদের বলুন। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা এখনও ঘরে ফিরে যায়নি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আগের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্যের জন্য দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। তাই আপনিও সাবধান হোন। ফেসবুকে ঢুকলে আপনার বিভিন্ন মানবিক কাজের ভিডিও দেখা যায় কিন্তু আপনার যে প্রধান দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সেটির ক্ষেত্রে আপনি সাড়ে বত্রিশ পেয়ে ফেল করেছেন। কারা হত্যা করে, কারা ধর্ষণ করে, কারা চাঁদাবাজি করে— এটা আপনি জানেন। আপনার উচিত ছিল ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। যদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাহলে ব্যবস্থা নেন। অন্যথায় ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে 'আসসালামুয়ালাইকুম' অর্থ্যাৎ আপনি বিদায় নিতে পারেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, “জুলাইর গণঅভ্যুত্থান দেখিয়েছে— এই দেশের মানুষ দখলবাজদের বিরুদ্ধে কতটা সোচ্চার হতে পারে। আজ সেই ঐক্য আবার গড়ে তুলতে হবে, দলের মুখোশধারী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে, নিপীড়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে। ছাত্রসমাজকে এই সংগ্রামে সম্মিলিত হতে হবে।”









