আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে স্কুলের ছাত্রদের নিয়োজিত করতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
বুধবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এমন দাবির কথা জানায় দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
তিনি বলেন, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে আমরা নয় দফা প্রস্তাব করেছি। আমরা মনে করছি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যা আছে—পুলিশ, আনসারসহ অন্যরা তা মোকাবেলা নাও করতে পারেন। এজন্য আমরা প্রস্তাব করেছি স্কুল ছাত্রদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত করার। যারা ভোটার নয় কিন্তু বয়সে কিছুটা বড় (১৬-১৭ বছর)। গণঅভ্যুত্থানেও যারা ভূমিকা রেখেছেন ছাত্রীসহ তাদের কথা বলছি। সিইসি সেটা অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন। তিনি বলেছেন খুবই ভালো আইডিয়া।
নির্বাচিনি ব্যয় কমানোর কথা উল্লেখ করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ভোটে ২৫ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় করা হয়। আমরা বলেছি, কাটছাঁট করার জন্য। কিন্তু ইসি তা করছে না। পোস্টার নিষিদ্ধ করে ইসি নিজেই ছাপাতে পারে কিনা, সেটাও আমরা বলেছি। যত্রতত্র পোস্টার না লাগালে পরিবেশের ক্ষতি হবে না, আবার ব্যয়ও করবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা, পোলিং এজেন্টদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রার্থীরা ব্যয় করেন। ভোটারদের আনা-নেওয়া এবং আপ্যায়নের ব্যবস্থা যদি ইসি করেন, প্রার্থীর খরচ কমে যাবে। তখন আর প্রার্থীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
তিনি বলেন, এছাড়া আমরা বলেছি, ভোট সেন্টার মাঠে না করে উন্মুক্ত স্থানে করা যায় কিনা। খোলামেলা থাকলে ভোট চুরি হবে না। খোলা মাঠে হলে সাংবাদিকসহ অন্যদের মনিটরিং সহজ হবে।
মঞ্জু বলেন, প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থার কথা বলেছি। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকরা যেন প্রার্থী হতে পারে সে দাবি করেছি। কেননা, দ্বৈত নাগরিকরা বিচারক হচ্ছেন। আমাদের উপদেষ্টা পরিষদেও আছেন। দ্বৈত নাগরিকরা প্রার্থী হলে আমরা ভালো সংসদ সদস্য পাবো।
তিনি বলেন, আমরা একটা পার্লামেন্টই কার্যকর করতে পারিনি। তাই পার্লামেন্টের দুটি হাউজের বিরোধিতা করেছি। এখন যেহেতু সবাই বলছে, আমরা আপার হাউজে পিআর চেয়েছি। এটা না হলে দুটি হাউজের প্রস্তাবের সমর্থন আমরা প্রত্যাহার করে নেবো। এছাড়া পাশাপাশি আমরা ২০০ আসনে বর্তমান পদ্ধতি বাকি ১০০ আসনে পিআর হতে পারে এমন বলেছি। ইসির কাছে কী কী ভাবে কারচুপি হয় তা আমরা তুলে ধরেছি। এজন্য কঠোর হতে বলেছি এবং প্রচারের জন্য বলেছি। তারা শক্ত অবস্থান নেবেন বলে জানিয়েছে।
ভোটের দায়িত্বে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। অভ্যুত্থানের পরেও আমরা দেখেছি কিশোরদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। আমরা বলেছি পাইলট আকারে করে এক্সিকিউট করতে। আমরা বলবোনা যে থ্রেট অ্যানালাইসিস না করে এটা করেন।
এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু ভোট করার জন্য নয় ভোটারদের কেন্দ্রে আনাও ইসির দায়িত্ব। তাই ইসির কাছে তাদের আনতে প্রস্তাব করছি।
ভোট নিয়ে সংশয়ের বিষয়ে এই নেতা আরও বলেন, সরকারের প্রধান বলেছে ভোট হবে, সিইসি বলেছেন ভোট হবে, দলগুলোর অনেকে বলছে ভোট হবে; এখন যারা বলছে ভোট হবে না, তাদের কনসার্স একটু গুরুত্বপূর্ণ। যারা ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে তাদের কনসার্ন পূরণ করেই ভোট এই সময়ের করা সম্ভব। বিচার, জুলাই সনদ এগুলো সম্ভব। তবে এগুলো না হলে ভোট হতে দেওয়া যাবে না—এটাতে আমরা বিশ্বাসী না।









