গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবেন তারেক রহমান: জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:৪০আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:৪০

আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবরে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় পার্টি ও জেপিসহ ১৮টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনি ও রাজনৈতিক জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) জোটের প্রধান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মুখপাত্র রুহুল আমিন হাওলাদার গুলশানে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান সাহেব দেশে ফিরবেন। আমরা বিশ্বাস করি, দেশে ফিরে তিনি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।’

রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান আগামী ২৫ তারিখ দেশে ফিরবেন বলে জানতে পেরেছি। আমরা তাকে দেশের স্বাগত জানাই।’

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও জাতীয় পার্টি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। যে নির্বাচনে প্রত্যেকটা মানুষ তার ভোটের অধিকার নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করতে পারবে। একইসঙ্গে সব প্রার্থীরা নিরাপদে তার নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারবে। লেভেল প্লেয়িং  ফিল্ড এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই দুটি বিষয়ে সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

গুলশানে একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরপরই ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করা হলো। তাহলে নিরাপত্তাটা কোথায়? এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচন করবেন?’

সংবাদ সম্মেলনে জাপার চেয়ারম্যান ও জোটের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরও বলেন, ‘তফসিল ঘোষণা করায় আমরা আনন্দিত এবং স্বাগত জানাই। নমিনেশন জমা দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৭ দিন। সময় যেটা দেওয়া হয়েছে এটা খুবই কম।’

‘এই নির্বাচনটা সবাইকে নিয়ে ইনক্লুসিভ নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচনের জন্য সিকিউরিটি এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন আজ ভাগাভাগির প্রশাসন। জামায়াত এবং বিএনপির মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষতা চাই, সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এখনও কেয়ারটেকার সরকারের সময় আছে। যদি না হয় তাহলে ইতিহাসে আপনাদের মূল্যায়ন ভালো হবে না। এই অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না,’ বলেন তিনি।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘একজন প্রার্থীকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করা হয়। কিন্তু প্রার্থীরা কী করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? এটাই যদি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয় তাহলে আমার কিছু বলার নাই। মব, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস চলছে। জুলাই আন্দোলনের পরও আগের মতো নির্বাচন হলে মর্মটা নষ্ট হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশন একলা কিছু করতে পারবে না। দল, নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব আছে।’

জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সারা দেশে একটা সংশয় বিরাজ করছে। নভেম্বর মাসেই ৫৮ জনের অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গেলো নভেম্বর মাসে ৯ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে। গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে ১৯ জন মানুষ। পুলিশ হেডকোয়ার্টারে তথ্য মতেই, প্রতি মাসে রাজধানীতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন খুন হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে ১ হাজার ৯৩১ জন খুন হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আজকে সন্ত্রাসের বলি হচ্ছে।’

রুহুল আমিন হাওলাদার আরও বলেন, জুলাই আগস্টে থানা থেকে যে অস্ত্র লুট করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সংস্থার হাত থেকে চলে গেছে— তা এখনও উদ্ধার করা হয়নি। এই অস্ত্র অনেক প্রার্থীর জীবন কেড়ে নিতে পারে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কোনও বক্তব্য না দেওয়াই আমরা চরমভাবে হতাশ হয়েছি। হাজারও অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে রেখে কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। হলেও সেটা চর দখলের মতো হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) মুখপাত্র ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রধান সমন্বয়কারী গোলাম সরোয়ার মিলন, জাতীয় ইসলামিক জোট চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু নাসের মো. ওহেদ ফারুক, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের চেয়ারম্যান আবু লায়েস মুন্না, তৃর্নমূল বিএনপি মহাসচিব মেজর ডাক্তার শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টি চেয়ারম্যান মির্জা আজম, স্বাধীনতা পার্টি (জেএসপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু, ডেমোক্রীটিক পার্টি গণতান্ত্রিক জোটের চেয়ারম্যান এস এম আসিক বিল্লাহ, বাংলাদেশ সার্বজনীন দলের সভাপতি প্রিন্সিপাল নূর মোহাম্মদ মনির, জাতীয় গণতান্ত্রিকলীগের সভাপতি এম এ জলিল, বাংলাদেশ লিবারেল গ্ৰীন পার্টির সভাপতি কে সি মজুমদার খোকন ও বাংলাদেশ মাইনরিটি ইউনাইটেড ফ্রন্ট চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার দাসগুপ্ত।

/এসটিএস/এমকেএইচ/
সম্পর্কিত
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
সর্বশেষ খবর
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
নতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
শিশু রামিসা হত্যা মামলানতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী