আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারে ১৫ দফা ‘শ্রমিক ইশতেহার’ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত ‘জাতীয় অংশীজন কনভেনশন ২০২৬’-এ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা এই দাবি জানান।
কনভেনশনে বক্তারা বলেন, নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষিত থাকে। তাই এই ইশতেহার কেবল প্রচারণার বিষয় নয়, বরং এটি বাস্তবায়নে নিয়মিত মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা বাস্তবায়ন করবেন এবং বাকিরা চাপের মুখে রেখে তা আদায় করে নেবেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “দেশের অর্ধেক মানুষ শ্রমিকশ্রেণী হওয়া সত্ত্বেও তারা কখনোই জাতীয় অগ্রাধিকারে নেই। গত দেড় বছরে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক বেকার ও নিপীড়িত হয়েছেন। এই ইশতেহার যেন কেবল বাজেট আলোচনার মতো বছরে একবারের বিষয়ে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”
বিলসের নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সুলতান উদ্দিন আহমেদ ইশতেহারের ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে সকল শ্রমিকের (প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক) আইনি স্বীকৃতি, নিবন্ধন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। শোভন ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের অধিকার নিশ্চিত করা। স্থায়ী কাজে আউটসোর্সিং বা অস্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করা। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে ভারসাম্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো প্রণয়ন করা। নারী, পুরুষ, প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী শ্রমিকের জন্য সমান মজুরি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা। মাতৃত্বকালীন ছুটি সবেতনে ৬ মাসে উন্নীত করা এবং শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, “এই ইশতেহার সংবিধান ও প্রচলিত আইনের বাইরে নয়। যারা জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করেন, তাদের মনে রাখতে হবে শ্রমজীবী মানুষই রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি। এই ১৫ দফা বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে আসতে হবে।”
উল্লেখ্য, ‘শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স’ দেশের বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম। শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং স্কপ-এর ৯ দফার ভিত্তিতে এই সুপারিশমালা তৈরি করা হয়েছে।








