যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাম প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। দেশপ্রেমিক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে এর বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
রবিবার(৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কার্যালয়ে বিভিন্ন বাম-প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
নেতারা বলেন, “চট্টগ্রামের নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়া চলবে না। বিদেশিদের সঙ্গে দাসত্বের এই চুক্তি বাতিলে সরকারকে বাধ্য করতে বাম-প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
সভার অপর এক প্রস্তাবে তারা বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সন্নিকটে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকিতে ফেলতে পারে এমন স্থান লালদিয়ায় বন্দর নির্মাণের জন্য ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে দেওয়া ইজারা চুক্তি বাতিল করতে হবে।”
সভায় দেশে-দেশে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান নেতারা। ফিলিস্তিনের গাজায় মার্কিন মদদে ইসরাইলি গণহত্যা, ইরানে ইসরাইল-মার্কিন হামলা, ইউক্রেন-রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। এছাড়া অবিলম্বে যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধের দাবি জানান নেতারা।
সভার অপর এক প্রস্তাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারের অবস্থান এখনও স্পষ্ট না করা ও চুক্তি বাতিলে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তা বাতিল না করলে নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন দলগুলোর নেতারা।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্কাফী রতন, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, সদস্য বেলাল চৌধুরী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সদস্য ডা. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, সদস্য কমরেড মাসুদ রেজা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি কমরেড আব্দুল আলী, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, বাসদ (মাহবুব)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড হারুন অর রশীদ, সদস্য মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, গণমুক্তি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা রাজা মিয়া, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সদস্য মো. সুলতান মাহমুদ, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন, সদস্য কানন কুমার চক্রবর্ত্তী, শেখ সেলিম কবীর, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সভাপতি কমরেড মাসুদ খান প্রমুখ।









