বিএনপি সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
গণভোটের গণরায় উপেক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশগুলো বাতিল এবং সমসাময়িক বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “বিগত সময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি। আর এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সব লক্ষণ ফুটে উঠছে। যদি এই সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, তবে সেদিন থেকেই আমরা তাদের ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করবো। তারা যেমন আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছেন না, আমরাও তাদের অবৈধ বলতে সময় নেবো না।”
তিনি আরও বলেন, “গণভোটের রায় না মানলে এর ফায়সালা করবো রাজপথে। এর বিকল্প বিরোধী জোটের কাছে নেই। এত দ্রুত রাজপথে নামার পরিকল্পনা বিরোধী জোটের ছিল না। কিন্তু গণভোট নিয়ে যে নাটকীয়তা শুরু হয়েছে তাতে রাজপথে নামা ছাড়া আমাদের আর কোনও বিকল্প নেই। এটি কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।”
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, “আমরা শুরু থেকেই এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। কিন্তু, তাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আমরা সব অংশীজনদের সঙ্গে বসে কাজ করতে আগ্রহী।”
ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী শাসনামলে ১৮ থেকে ১৯টি এজেন্সির মানুষের ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা ছিল। তাদের ওপর কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা কমিয়ে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ করেছিল। আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু, বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮ থেকে ১৯টি এজেন্সির হাতে অবাধে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।”
বিএনপি সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে।”









