হাম ও সন্দেহজনক হামে এত শিশুর মৃত্যু স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাকে প্রকট করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, “বাংলাদেশের অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্যখাত দুর্নীতি, অদক্ষতা ও খামখেয়ালীপনার শিকার হয়ে নাজুক ও ভঙ্গুর অবস্থায় বিরাজ করে। তবে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জন্য সরাসরি মানুষকে জীবন দিতে হয়, এবার শিশুদের জীবন দিতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয় নাই, এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিৎ ছিল শিশুদের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই সংক্রামক রোগের টিকার ব্যবস্থা করা। কিন্তু তিনি তা করেন নাই। পরিণতিতে হাম ছড়িয়ে পড়ছে। যদি হাম ছড়িয়ে না পড়তো তাহলে হামের টিকা না দেওয়ার বিষয়টিও ধামাচাপা পড়ে থাকতো। আমাদের আশংকা হয় চিকিৎসা খাতের অন্যান্য দিকগুলোও না জানি কতটা নাজুক ও ভয়াবহ অবস্থায় আছে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির আক্ষেপ করে বলেন, “সরকারি হিসাবে গতকালও সাতটি শিশু হামে মারা গেছে। ১৫ মার্চ থেকে ২৩ দিনে দেশে হামে মোট ২০ শিশু মারা গেছে। এই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১১৮ শিশুর। বেসরকারি হিসাবে বা সত্যিকারের মুত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হবে নিশ্চিত। এভাবে কোমলমতি শিশুদের মৃত্যু সহ্য করা যায় না। এগুলো মৃত্যু না বরং স্পষ্টত রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকারভুক্ত একটি খাতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায় না।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আর কোনও শিশুর মৃত্যু দেখতে চাই না। সেজন্য হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। গণস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এমন কাউকে স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্ব দিতে হবে। স্বাস্থের মতো মৌলিক মানবাধিকারভুক্ত একটি খাতে রাষ্ট্রকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যায় না।”









