চব্বিশের বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ছাত্রদলের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি চলতে পারে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে গণভোটের গণরায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতে আয়োজিত গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, ‘আলিফ আমার হাত ধরে বলেছিল, ‘গলায় যখন প্রথম কাঁটা বিদ্ধ হয়, তখন তা সীমিত কষ্টেই অপসারণ করা যায়। কিন্তু যখন তা গভীরভাবে বিদ্ধ হয়ে যায়, তখন তা অপসারণে অনেক বেশি রক্তক্ষরণ হয়।’’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শক্তি বাংলাদেশের মানুষের গলায় গভীরভাবে বিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাই সেই ফ্যাসিবাদ উৎখাত করতে ১৪০০ বীর শাহাদাত হয়েছেন। আবার নতুন করে যে ফ্যাসিবাদ গেড়ে বসার চেষ্টা করছে, আর শুরুতেই যদি তাকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে আনা না যায়, তাহলে তাকে উৎখাত করতেও আরও অনেক বড় আত্মত্যাগের প্রয়োজন হবে। ২৮০০ মানুষের রক্তের মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করতে হবে।’’
মামুনুল হক বলেন, ‘‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তুমি তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালিম হোক কিংবা মজলুম।” সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেছিলেন, “জালিমকে কীভাবে সাহায্য করব?” জবাবে রাসূল (সা.) বলেন, তার জুলুমের হাত গুঁড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।”
এই হাদিসের আলোকে তিনি বলেন, ‘‘আমরাও আমাদের দীর্ঘদিনের রাজপথের সঙ্গী বিএনপিকে বলতে চাই, যদি বিএনপি জুলুমের রাজনীতি থেকে ফিরে না আসে, তাহলে সেই জুলুমের হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’’
জুলাই আন্দোলনে কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের যেখানেই জুলুম হবে, যেখানেই জুলুমের হাত উত্থিত হবে, সেখানেই আমার মাদ্রাসার ছাত্ররা আবাবিলের মতো রাজপথে নেমে আসবে, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘গণভোটের রায় আমরা পেয়েছি দেড় হাজার শহীদের বিনিময়ে। আমরা পেয়েছি শাপলার শহীদদের রক্তের বিনিময়ে। আমরা পেয়েছি ৫৭ জন বিপ্লবীর রক্তের বিনিময়ে। যদি সেই রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়, তাহলে আমরা সেই রক্তের সম্মান রক্ষায় শপথ নেব।”

তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবেন না, পতন শুরু হয়ে গেছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী 







