বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট। একইসঙ্গে শিক্ষক নিয়োগে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে কেন্দ্রীয়, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যুব ফ্রন্টের আহ্বায়ক রাশেদ শাহরিয়ার এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের পর এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ চালু হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ অনেকাংশে কমেছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয় ‘দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই নিয়োগব্যবস্থা বাতিল করে আবার ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া মূলত পুরোনো দুর্নীতির পথকে পুনরায় উন্মুক্ত করবে।’
তিনি বলেন, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির হাতে ছেড়ে দিলে যোগ্যতা ও মেধার পরিবর্তে অর্থ, রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং স্থানীয় প্রভাব নিয়োগের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। এতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হাজারো প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হবে না। নিয়োগপ্রত্যাশী তরুণদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।’
এতে আরও বলা হয়, নিয়োগের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা সংকুচিত করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে নিয়োগের ক্ষমতা তুলে দিলে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট আরও গভীর হবে।
পাঁচ দফা দাবি
বাংলাদেশ যুব ফ্রন্টের দাবিগুলো হলো—
১. বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২. এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা বহাল রাখতে হবে।
৩. এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। তবে নিয়োগের ক্ষমতা স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।
৪. ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জনসহ সব যোগ্য নিবন্ধনধারীর দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ ও রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এনটিআরসিএর পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটি কোনোভাবেই মানা হবে না: জামায়াত আমির






