বাংলাদেশেরে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, অনেক রক্তে অর্জিত দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের সুযোগকে কোনও হটকারীতায় বিনষ্ট করা যাবে না।
আওয়ামী লীগকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে। রাজনীতিকরা ব্লেমগেইমের পুরোনো প্রত্যাখ্যাত রাজনীতির মধ্যেই বন্দি হয়ে থাকছেন। জনকল্যাণে নেওয়া সরকারি পদক্ষেপের সুফল এখনও জনগণের বড় অংশের কাছে পৌঁছেনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সেগুবাগিচায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই দিনব্যাপী সভার প্রথম অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে দেশী-বিদেশি কোনও অপশক্তির তৎপরতাও আর বরদাস্ত করা যাবে না।
তিনি বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ নিয়ে বেশি দড়ি টানাটানি আখেরে বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে। পরোক্ষভাবে তারা এখনও দেশের রাজনীতির নিয়ামক শক্তি হয়ে উঠছে কিনা, ভেবে দেখা দরকার।
সাইফুল হক ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন,রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংসদের ভেতরে বা বাইরে তাদের আর্থ সামাজিক কর্মসূচি বা উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে বিতর্ক করতে দেখা যায় না। তারা এখনও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার ও ভাইরাল হবার ব্লেম গেইমের পুরোনো রাজনীতির মধ্যেই বন্দি হয়ে আছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই ও ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান রাজনীতিকদের অধিকাংশের মনসতত্ত্বে তেমন কোনও পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। যে কারণে প্রত্যাখ্যাত পুরোনো রাজনীতির ঘেরাটোপের মধ্যেই তারা বন্দি হয়ে আছেন।
দেশব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সরকারকে তিনি ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে যে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, আর একবার তা দেখা গেলো। কিন্তু দেশব্যাপী মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত হয়নি; সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা এখনও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।মাত্র গত একবছরে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে এসেছে। কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নেমে আসার ঝুঁকিতে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার যোগদানের অভিজ্ঞতাও কেন্দ্রীয় কমিটিতে তুলে ধরেন সাইফুল হক।