জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনা খুঁজতে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন (এমআইইজেড) পরিদর্শন করেছে জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগের একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রতিনিধি দলটি এমআইইজেড পরিদর্শন করে। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান।
সংসদ সদস্য নিকলাস কাপে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এতে আরও ছিলেন সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) গেরল্ড অটেন, ইয়োহান সাটহফ ও উরসুলা শাওস। এছাড়া জার্মান বুন্দেসটাগ প্রশাসনের সহায়ক কর্মকর্তা আনিয়া কাটেরিনা এলিজাবেথ বিনার্ট এবং দোভাষী ম্যাক্স ডরফ্লার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন।
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশে জার্মান ফেডারেল রিপাবলিকের রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎস, ইকোনমিক অ্যাটাশে অলগা নভিকোভ ভিনেন, হেড অব পলিটিকাল, প্রেস অ্যান্ড কালচার মনিকা রয়টার, পলিটিকাল অ্যান্ড প্রেস অফিসার মিফতাহুল জান্নাত এবং ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেহরাব বিন তারেকও ছিলেন।
পরিদর্শনকালে মেঘনা গ্রুপের সদস্যরা জার্মান প্রতিনিধি দলকে এমআইইজেডের বিভিন্ন সুবিধা ঘুরিয়ে দেখান। এ সময় জোনে থাকা দুটি জার্মান মালিকানাধীন কারখানা—সিএইচটি বাংলাদেশ লিমিটেড ও সিগওয়ার্ক বাংলাদেশ লিমিটেড পরিদর্শন করেন তারা।
এমআইইজেডের অধিকাংশ কারখানায় জার্মান মেশিনারি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
পরিদর্শন শেষে জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগের সংসদীয় প্রতিনিধি নিকলাস কাপে বলেন, ‘এমআইইজেডে জার্মান শিল্প ও প্রযুক্তির এই শক্তিশালী উপস্থিতি দেখে আমি আনন্দিত। এ ধরনের পরিদর্শন জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে পুনর্নিশ্চিত করে এবং আগামী দিনে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
এমজিআই চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এমআইইজেডে জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগের উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দলকে বরণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী।’
তিনি বলেন, এই সম্পর্ক অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে কয়েক দশকের সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ক্রমবর্ধমান উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
মোস্তফা কামাল আরও বলেন, এমআইইজেডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সরবরাহ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা রয়েছে। তিনি জার্মান বিনিয়োগকারীদের এমআইইজেডে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
এমজিআই জানিয়েছে, এমআইইজেডের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও দুটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত করছে তারা। এগুলো হলো কুমিল্লা ইকোনমিক জোন ও তিতাস ইকোনমিক জোন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, জাপান, ভারত, চীন, বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা স্থাপন করেছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।









