একটু একটু করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের স্বপ্নের তরী এগিয়ে যাচ্ছে তর তর করে। কার্যকর পেস বোলিং আর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তার প্রধান অস্ত্র। বাংলাদেশ দল দীর্ঘদিন ধরেই এমন একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের খোঁজ করে আসছিল। অনেককে দিয়ে চেষ্টা করার পরও কেউ মন ভরাতে পারেনি। তাই টিম ম্যানেজমেন্ট আপাতত ভরসা রাখতে চাইছে তরুণ সাইফউদ্দিনের ওপর।
গত শ্রীলঙ্কা সিরিজে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় সাইফের। যদিও ওয়ানডের রঙিন জার্সিতে এবারই প্রথম। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই পেলেন সেই সুযোগ। তাই নিজের স্বপ্নের তরীটা আরও একটু এগিয়ে নিতে হয়তো ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ওয়ানডে স্কোয়াডে নিজের নাম দেখে তাই চোখে মুখে বিস্ময় সাইফউদ্দিনের। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে সাইফউদ্দিন বললেন তার সেই রোমাঞ্চকর অনুভূতির কথা, ‘খুব ভালো লাগছে। বিশ্বাস করত পারছি না, আমি ওয়ানডেতে সুযোগ পেয়েছি। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলাটা সব সময়ই অন্যরকম ব্যাপার। এই রোমাঞ্চ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় যেতে চাই, চাই সুযোগটা কাজে লাগাতে।’
অবশ্য টি-টোয়েন্টি অভিষেকটা মনের মতো রাঙাতে পারেননি। ৩ ওভার বোলিং করে ২৩ রান খরচ করে ছিলেন উইকেটশূন্য। যদিও টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় খুব খারাপ বলা যাবে না। তবু এই আক্ষেপটা ওয়ানডেতে পূরণ করতে চান সবশেষ যুব বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রিকেটার, ‘সব সময়ই চেষ্টা করি ভালো কিছু করতে। টি-টোয়েন্টির অভিষেকটা ভালো করতে পারিনি। তাই ওয়ানডে অভিষেকটায় চেষ্টা করবো স্মরণীয় কিছু করতে। এমন কিছু করতে চাই, যা দলের কাজে লাগবে। সেটা ফিল্ডিং, ব্যাটিং কিংবা বোলিং- যে কোনও ভাবেই হোক। দলে একজন অলরাউন্ডারের যা যা ভূমিকা থাকে, সেটা পালন করার চেষ্টা করবো।’
নির্বাচকদের কথাতে আস্বস্ত হয়েছিলেন সাইফউদ্দিন! কী এমন কথা বলেছিলেন নির্বাচকরা। সাইফউদ্দিনের মুখেই শোন যাক সেসব কথা, ‘অস্ট্রেলিয়াতে ভালো করেছি। ইংল্যান্ডে ব্যাটিং-বোলিং ভালো করাতে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ছিল যে সুযোগ পেতে পারি। ওভাবে নির্বাচকরা কিছু বলেননি। শুধুমাত্র বলেছিল যে কোনও সময়ের জন্য তৈরি থাকতে।’
নিজের সামর্থ্যের ওপর অগাধ বিশ্বাস তরুণ এই রাউন্ডারের। তাইতো আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ তার, ‘আমি সব সময়ই আমার সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে পারফরম্যান্স করেছি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস ছিল। গত ৬ মাসে এই আত্মবিশ্বাসরে পরিমাণটা আরও বেড়েছে।’
গত সেপ্টেম্বরে এইচপির হয়ে ইংল্যান্ডে খেলে এসেছেন সাইফউদ্দিন। সেখানে কন্ডিশনটা কাজে লাগিয়েছেন ভালোভাবেই। যদিও প্রতিপক্ষ ছিল দুর্বল। তবে প্রোটিয়া সফরে এর কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করেন তিনি, ‘ইংল্যান্ডের সফরটা অবশ্যই কাজে দেবে। উইকেট হয়তো একই রকম ছিল। তবে টিমতো দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী ছিল না। তাই হয়তো ওখানে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে।’
গত কিছুদিন ধরেই মাশরাফির সঙ্গে একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেছেন সাইফউদ্দিন। অনুশীলনের মাঝে বসে থাকেননি তিনি, মাশরাফির সঙ্গে কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন, ‘মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে উইকেট, কন্ডিশন নিয়ে আলোচনা করেছি। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওরা আরও ভয়ঙ্কর দল। ওখানে ভালো করা খুব কঠিন।’







