‘আর্জেন্টিনা দলে কিসের বিদ্রোহ? যে পরিস্থিতির কখনও উদ্ভবই হয়নি তার ব্যাখ্যা কীভাবে দেবো?’—কোচের বিরুদ্ধে মেসিদের বিদ্রোহের কথাটা তুলতেই এভাবে উত্তর দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ হোর্হে সাম্পাওলি। তাতে বোঝাই যাচ্ছে আপাতদৃষ্টিতে তিলকে তাল বানিয়ে সংবাদ পরিবেশন করানো হয়েছে গণমাধ্যমে।
হোর্হে সাম্পাওলি অবশ্য অস্বীকার করেননি এই কথা, স্কোয়াড নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন মেসি, ‘ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের যেই গঠন ছিল সেটা মেসির পক্ষে যায়নি। আমরা সেরাটা দিতে চেষ্টা করবো, যাতে বলটা আমাদের কাছে আরও বেশি করে আসে।’
ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার বাঁচা-মরার ম্যাচ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। তাই আগের ম্যাচে ব্যর্থতা ছাপিয়ে জেতার দিকেই মনোযোগী হোর্হে সাম্পাওলি, ‘গত ম্যাচ যেভাবে শেষ করেছি তার সব দায়ভার আমার। আমিই দলটির কোচ, তাই পরের ম্যাচ কীভাবে জেতা যায় তা নিয়েই ভাবছি।’
‘ডি’ গ্রুপে জটিল সমীকরণ অপেক্ষা করছে আর্জেন্টিনার সামনে। পরের পর্বে যেতে নাইজেরিয়াকে অবশ্যই হারাতে হবে আর্জেন্টিনাকে। আর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হারতে হবে আইসল্যান্ডকে। তাতে নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ভাগ্য। একই সঙ্গে কোচ মনে করছেন, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শুরু হবে এই ম্যাচ দিয়েই, ‘আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে এখন। যা হয়েছে সেটা মেনে নিতেই হবে। তাই এই ম্যাচটি ৫ ম্যাচের একটি, যা আমাদের ফাইনালে নিয়ে যাবে।’
আজকের একাদশে পরিবর্তন আসছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। গোলরক্ষক উইলি কাবায়েরোকে শুরুর একাদশে দেখা যাচ্ছে না আজ। তবে মিডিয়ায় চাউর হয়েছিল একাদশ বাছাই করতে দেখা যাবে না সাম্পাওলিকে। ‘বিদ্রোহ’, ‘প্রতিবাদ’ এমন সব কথা শোনা যাচ্ছিল। অথচ সংবাদ মাধ্যমে দিব্যি নিজের সেই কর্তৃত্বের কথা ফলাও করেই প্রচার করলেন সাম্পাওলি, ‘নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আরও বেশি অভিজ্ঞদের দেখতে পাবেন। মূল কথা হলো, যারা কাল খেলবে তারা ঐতিহাসিক খেলোয়াড় হোন বা না হোন, তারা নিজেদের ঘামের শেষ বিন্দু পর্যন্ত ঢেলে দিতে বাধ্য। যাতে আর্জেন্টিনা নকআউটে যেতে পারে।’
সাম্পাওলির এমন বক্তব্যের পর আর যাই হোক বিদ্রোহের যুক্তি ধোপে টেকে না। ভুলে গেলে চলবে না, তার অধীনেই প্রথমবার ২০১৫ কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল চিলি। দ্য গার্ডিয়ান, স্কাই স্পোর্টস।








