গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েডের নির্মম মৃত্যু গোটা বিশ্বকে যেভাবে নতুন করে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সজাগ করে তুলেছে, এখনও মানুষ খোলামনে কথা বলে চলেছে এ নিয়ে। কদিন আগে বর্ণবাদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চোখের জল ফেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার মাইকেল হোল্ডিং। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ফাস্ট বোলার মাখায়া এনটিনি প্রকাশ্যে আনলেন বর্ণবাদ কীভাবে তার মধ্যে এনে দিয়েছিল বিচ্ছিন্নতাবোধ। বহুদিন আগে শুকিয়ে যাওয়া সেই চোখের জলের গল্পই বললেন এনটিনি।
টেস্টে ৩৯০ এবং ওয়ানডেতে ২৬৬ উইকেট নিয়েছেন এনটিনি। গ্রায়েম স্মিথ, জ্যাক ক্যালিস, শন পোলক, মার্ক বাউচার, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ল্যান্স ক্লুজনারদের সঙ্গে মিলে দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক ক্রিকেট সাফল্য নির্মাণ করেছেন। কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গ বলে তাকেই কিনা বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। যা ভেতরে ভেতরে তাকে করে করে তুলেছে ব্যথাতুর, অন্তর্গত সেই কান্নাটা কেউ দেখতে পায়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকার যে ৩০ জন সাবেক ক্রিকেটার সম্প্রতি ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার (কালোদের জীবনেরও মূল্য আছে)’ শীর্ষক আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, তাদের অন্যতম এনটিনি। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী সাউথ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনে সম্প্রতি দেওয়া এনটিনির বক্তব্য ঝড় তুলেছে ক্রিকেট দুনিয়ায়। এনটিনি বলেছেন, ‘কেউ আমার দরজায় টোকা দিয়ে বলতো না, চলো ডিনারে যাই। আমার সামনে বসেই সতীর্থরা কত রকম পরিকল্পনা করতো আমাকে বাদ রেখেই। ব্রেকফাস্টের টেবিলে আমার পাশে এসে বসতো না কেউ।’
এনটিনি আরও বলেন, ‘একই পোশাক আমাদের গায়ে, একই জাতীয় সংগীত আমাদের কণ্ঠে অথচ আমাকে বিচ্ছিন্নতাবোধের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলতে হতো।’
দলের একজন হয়েও তিনি আসলে ‘দলছুট’, একা- এই বোধটা দূরে সরিয়ে রাখতে এনটিনি টিম বাসে যেতেন না, ‘আমি বাসের ড্রাইভারকে দেখে আমার ব্যাগটা দিয়ে দিতাম। তারপর আমি স্টেডিয়ামে যেতাম দৌড়ে। স্টেডিয়াম থেকে ফেরার সময়েও একই কাজ করতাম আমি। মানুষ কখনও বুঝতো না কেন এটা আমি করছি, আমি কখনোই বলতাম না যে আমি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছি।’
‘আমাকে ইচ্ছে করেই একা থাকতে হতো। আমি যদি বাসের পেছনে বসতাম, তারা সেখান থেকে উঠে সামনে গিয়ে বসতো। জিতলে আনন্দ হতো-কিন্তু হারলে প্রথম দোষটা চাপতো আমার ঘাড়ে’-শ্বেতাঙ্গ সতীর্থদের বৈষম্যমূলক আচরণ আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এনটিনি।
৪৩ বছর বয়সী সাবেক ফাস্ট বোলার শুধু নিজেই নন, তার ছেলেও বর্ণবৈষম্যের শিকার বলে দাবি করেছেন, ‘আমার ছেলে ঠান্ডোরও এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে, মিথ্যে অপবাদে তার অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাম্পে যাওয়াটাই বন্ধ হতে যাচ্ছিল।’
মঙ্গলবার বিএলএম (ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার) আন্দোলনের সমর্থনে এক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে এনটিনিসহ দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ৩০ জন ক্রিকেটার বলেছেন, বর্ণবাদের ছায়া এখনও থেকে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়াঙ্গনে।
সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা বিএলএম আন্দোলনের সপক্ষে বিবৃতি দিয়েছে।








