সেই মার্চের ১১ তারিখে মিরপুরের ফ্লাডলাইট জ্বলেছিল সর্বশেষ। এরপর প্রতিযোগিতা দূরে থাক, করোনার কারণে ক্রিকেটই মাঠে নামতে পারেনি। স্থবির ক্রিকেটাঙ্গনে ধীরে ধীরে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করার পরও কেটে গেছে সাত মাস। এই সময়টাতে একবারের জন্যও মিরপুর ফ্লাডলাইট জ্বলেনি। অবশেষে আগামীকাল (রবিবার) ফ্লাডলাইটের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে মিরপুরের ২২ গজ। মাহমুদউল্লাহ একাদশ ও নাজমুল একাদশের ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে তিন দলের বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স একাদশ।
দর্শক মাঠে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন না। তবে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচটি দেখতে পারবেন। বিসিবির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে (www.facebook.com/bcbtigercricket) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ বেতারে শোনা যাবে ধারাবিবরণী।
করোনা অনেকগুলো আন্তর্জাতিক সিরিজ বাতিল করে দেওয়ার পর অক্টোবরে নির্ধারিত শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে রোমাঞ্চিত ছিলেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সফরটিও স্থগিত হয়। সফর স্থগিত হলেও বিসিবির উদ্যোগে ক্রিকেটের মধ্যেই আছেন তামিম-মুশফিকরা। দুটি দুইদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে এখন কৃত্রিম আলোর নিচে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার অপেক্ষায় তারা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মিরপুরের ২২ গজ আলোকিত হতে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ক্রিকেটের বাইরে থাকার কারণে বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স কাপ নিয়ে প্রতিটি ক্রিকেটারের মধ্যে রোমাঞ্চ কাজ করছে। সিনিয়র-জুনিয়র সবাই তুমুল আগ্রহ নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় রযেছেন। রবিবার টুর্নামন্টে শুরুর আগে শনিবার সন্ধ্যায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে আলোর ঝলকানিতে প্রেসিডেন্ট’স কাপের ট্রফির উন্মোচন করেন তিন দলের তিন অধিনায়ক।
মাহমুদউল্লাহ একাদশে লিটন দাস, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, ইমরুল কায়েস, রুবেল হোসেনের মতো অভিজ্ঞ সব ক্রিকেটারের পাশাপাশি নাঈম শেখ, হাসান মাহমুদ, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, রাকিবুল হাসান ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের মতো প্রতিশ্রুতিশীল সব ক্রিকেটার রয়েছেন। এমন একটি দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে থাকতে চান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন, ‘দল খুব ভালো হয়েছে টপঅর্ডার টু লেট মিডলঅর্ডার। স্পিনিং সাইড, পেস বোলিং ইউনিটও খুব ভালো। সবমিলিয়ে খুবই ব্যালান্সড দল। টুর্নামেন্টে ভালো করা সম্ভব আমাদের।’
সেই ভালোটা কী পরের বাক্যেই বলেছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘প্রত্যাশা অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। তার চেয়েও ভালো, এটা আমাদের নিজেদের ভেতরে ভালো একটা প্রতিযোগিতা। প্রমাণ করার মঞ্চও। অনেক দিন পর যেহেতু আমরা মাঠে নামছি, এটা সবার ভেতর একটা কৌতূহল, উদ্দীপনা কাজ করবে। আমার মনে হয় এটা খুবই ভালো একটা টুর্নামেন্ট হবে। আমরা সবাই মুখিয়ে আছি, সব খেলোয়াড় উদগ্রীব টুর্নামেন্টে ভালো খেলার জন্য।’
মুশফিক অধিনায়কত্ব করতে আগ্রহ প্রকাশ না করায় তৃতীয় দলটির নেতৃত্ব দেবেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আগামীকাল মাহমুদউল্লাহ একাদশের হয়ে মাঠে নামবে নাজমুলের দল। মুশফিক, সৌম্য, আফিফ, তাসকিন, আল আমিনদের নিয়ে মোটামুটি ভালো হয়েছে নাজমুলের একাদশ।
মাহমুদউল্লাহর মতো নাজমুলের কণ্ঠেও আত্মবিশ্বাস, ‘প্রতিটি দলই ভালো। প্রত্যাশা অনেক উঁচুতে, আমাদের দলটাও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই খেলবে। নিজেদের ন্যাচারাল গেমটা খেলতে পারলে ভালো কিছুই হবে। সবমিলিয়ে খুব ভালো একটা সাইড আমি মনে করি।’
সবগুলো দলকে সমান ভালো বললেও একটি জায়গায় নিজেদের এগিয়ে রাখছেন নাজমুল, ‘তিনটি দলই খুব ভালো হলেও আমাদের পজিটিভ দিক হচ্ছে, আমাদের ফিল্ডিং সাইডটা খুবই ভালো। সাথে বোলিং-ব্যাটিং তো আছেই। আশা করি তিন বিভাগেই ভালো কিছু হবে।’
মাহমুদউল্লাহএকাদশ: মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), নাঈম শেখ, লিটন দাস, মুমিনুল হক, মাহমুদুল হাসান, নুরুল হাসান, সাব্বির রহমান, ইমরুল কায়েস, হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন, রুবেল হোসেন, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, মেহেদী হাসান মিরাজ, রাকিবুল হাসান, আমিনুল ইসলাম।
নাজমুলএকাদশ: নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, আফিফ হোসেন, মুশফিকুর রহিম, তৌহিদ হৃদয়, ইরফান শুক্কুর, পারভেজ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেন, আবু জায়েদ, মুকিদুল ইসলাম, নাঈম হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন।







