বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির বিতর্কিত ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে ফিফা সভাপতি কম দৌড় ঝাপ করেননি। শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বজুড়ে তীব্র বিরোধিতার মুখে এই প্রকল্পটি ভেস্তে যাওয়ার পর এবার এক নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পরিকল্পনাটি সফল হলে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর বর্তমান বার্ষিক বেতন অবিশ্বাস্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেত।
সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, ফিফা সভাপতি হিসেবে বর্তমানে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বার্ষিক মোট বেতন প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন বা ৪৮ লাখ ডলার, যার মধ্যে মূল বেতন ২৬ লাখ এবং বোনাস ২২ লাখ ডলার। তবে বিতর্কিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পটি যদি বাস্তবায়িত হতো, তবে ইনফান্তিনোর বার্ষিক আয় সরাসরি বেড়ে দাঁড়াত প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারে!
প্রকল্পটি পাস করানোর জন্য ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টি ভোট এবং ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে ইনফান্তিনো বিশাল অঙ্কের আর্থিক প্রলোভনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছিলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি সদস্য দেশের অনুদান বর্তমানের ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে অবিলম্বে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা হবে।
বিশেষ করে যেসব দেশে ফুটবল আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের সহযোগিতার কথা বলেই এই পরিকল্পনা সামনে এনেছিলেন তিনি। তবে ছোট দেশগুলোর জন্য সহায়তার লোভ দেখালেও শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি ফুটবলের ভবিষ্যৎকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ‘বন্ধক’ রাখার সমান বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই প্রকল্পটি ঘোষণার পর থেকেই ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা), কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে।
উয়েফা জানিয়ে দেয়, এই পরিকল্পনা বহাল থাকলে তারা ফিফার কোনো টুর্নামেন্ট বা বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। এমনকি দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলও এ বিষয়ে অতিরিক্ত স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যা দাবি করে। চারপাশ থেকে এমন নজিরবিহীন অনাস্থা ও বিরোধিতার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন ইনফান্তিনো। এক বিবৃতিতে তিনি স্বীকার করেন যে, এই উদ্যোগ ফুটবলে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরি করেছে, যা আর দীর্ঘায়িত করার কোনো মানে হয় না।
আর এতেই শেষ হয় সেই প্রস্তাবটির বাস্তবায়ন।









