ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের তিন নম্বর জায়গাটি এখনও পাকাপোক্ত নয়! কখনো ইমরুল; কখনো বা রিয়াদ-লিটন-মুশফিক কিংবা সাকিব করেছেন তিন নম্বরে ব্যাটিং। সেই ধারাবাহিকতায় এই প্রথম ব্যাটিং করলেন সাব্বির রহমান। অবশ্য ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের পর থেকে তিন নম্বরে ব্যাটিং করছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যদিও তিনি সফল বেশি চার নম্বরে। বিশ্বকাপে ওখানে ব্যাটিং করেই ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন।
প্রথমবারের মতো তিন নম্বরে ব্যাটিং করে এক কথায় সফল বলা চলে সাব্বিরকে। প্রথম দুই ম্যাচে রান খড়ায় ভুগতে থাকা সাব্বির এদিন হাত খুলে মারলেন আফগান বোলারদের। মিরপুরের উপস্থিত দর্শকরা তার ব্যাটিং তাণ্ডব উপভোগ করলো মন ভরে।
শনিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। পরপর তিন ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া সাব্বির এদিন মন খুলে বোলারদের পেটালেন! ৬৮ বলে ৫ চার ও দুই ছয়ে তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছান। মোহাম্মদ নবীর বলটি স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে মেরে তিন নম্বরে ‘প্রথম’ হাফসেঞ্চুরির দেখা পান তিনি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিন নম্বরে ব্যাটিং করে সফল ছিলেন সাব্বির। তাইতো কয়েকদিন ধরেই সাব্বিরকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল তিন নম্বরে খেলানোর। মাশরাফি অবশ্য যুক্তি দেখালেন মুশফিকের ব্যাটিং অর্ডার পেছনে যাচ্ছে বলেই তাকে তিন নম্বরে খেলানো হচ্ছে না। অবশেষে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েই কারিশমা দেখালেন সাব্বির।
সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর তামিমকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গুরুত্বপূর্ণ ১৪০ রান করেছেন সাব্বির। যা আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি। আউট হওয়ার আগে ৭৯ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন। ৩১তম ওভারে রহমত শাহকে থার্ডম্যানে খেলতে গিয়ে নওরোজ মঙ্গলের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন সাব্বির।
এই রানটি তার ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং। গত নভেম্বরে এর আগে তার সর্বোচ্চ রান ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫৭।
উল্লেখ্য, রঙিন পোষাকে অভিষেক হলেও এখনও অভিষেক হয়নি সাদা-পোষাকে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৬ ম্যাচে ৩০.৭২ গড়ে ৫৫৩ রান করেছেন সাব্বির। এছাড়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৬ ম্যাচে ৩০.২০ গড়ে ৬০৪।
/আরআই/এফআইআর/








