পরিকল্পিতভাবেই মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচকে ইংল্যান্ডের জন্য বধ্যভূমি বানিয়েছিল বাংলাদেশ। স্পিন সহায়ক পিচ হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামে যে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি ঢাকায় তা ঠিকই অর্জিত হয়েছে। পিচ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জানালেন খুঁটিনাটি, ‘হোম অ্যাডভান্টেজ বলতে যা বোঝায় তাই আমরা করেছি, দলে তিনজন স্পিনার নিয়ে স্পিন সহায়ক পিচ না বানানোর কথা ভাবাটাই তো ভুল। আমি বিশ্বাস করি আমাদের ত্রি-মুখী স্পিন আক্রমণটা ইংল্যান্ডের জন্য যথেষ্ট কঠিন ছিল।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বোলিংয়ে টার্ন, লাইন ও ফ্লাইট সবকিছু দিয়ে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডকে আক্রমণ করেছে। পিচের সহায়তা নেবে হোমটিম; তাই হয়েছে আর বাংলাদেশ জয়ের দেখা পেয়েছে।’
তিনদিনের টেস্টে দুই দলই অলআউট হয়েছে দুইবার অর্থ্যাৎ মোট ৪০ টি উইকেটের পতন হয়েছে। এর মাঝে ৩২ টি উইকেটই নিয়েছেন স্পিনাররা। বাংলাদেশের তিন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ১২টি, সাকিব আল হাসান পাঁচটি আর তাইজুল ইসলাম তিনটি। এরা মোট ২০টি উইকেট নিয়েছেন। অপরদিকে ইংলিশ স্পিনাররা নিয়েছেন ১২টি।
তবে তিনদিনেই যে খেলা শেষ হয়ে যাবে এমনটি প্রত্যাশা করেননি সুজন, ‘সত্যি বলতে কি তিন দিনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট শেষ হয়ে যাবে এমনটি কখনই ভাবিনি। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম ইংল্যান্ড চতুর্থ ইনিংসে ভুগবে। পিচের কারণে আমাদের স্পিনাররা তৃতীয়-চতুর্থ দিনে বল হাতে যে বিধ্বংসী হয়ে উঠবে তা আমরা নিশ্চিত ছিলাম। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ এত ভালো বল করবে তা আমরা ভাবতে পারিনি।’
তাহলে কি ইংল্যান্ডের ব্যাটিং গভীরতা কম? এমন প্রশ্নে সুজন, ‘আমি সেটি মনে করি না, আসলে এ কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের কম। তারা চেষ্টা করেছে তবে পারেনি। এখানে বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্ব ছিল। যে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে সেটা ইংল্যান্ড সামলে উঠতে পারেনি।’
এ সাফল্যের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টেরও সাফল্য দেখছেন সুজন, ‘ইংল্যান্ড দলকে পর্যালোচনা করেই আমরা এ ধরনের পিচ বানিয়েছি। ভারত বা পাকিস্তান আসলে নিশ্চয়ই এ ধরনের পিচ বানাবো না। মোট কথা আমরা ‘অফ দ্য ফিল্ড’ সাফল্য পেয়েছি এবং এটিও একটি বড় অর্জন।’
/আরএম/এফআইআর/








