‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।’ তারা অবশ্য ‘শিশু’ নন, তবে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তো বটেই। আগামী ১৩ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডে শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ আয়োজন। আজ থাকছে উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলামের কথা।
ছোটবেলায় বড় ভাইকে খেলতে দেখে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার জন্ম মাহিদুলের। গলিতে খেলে আর টিভিতে খেলা দেখে মাত্র ৬ বছর বয়সে ক্রিকেট হয়ে ওঠে তার ধ্যান-জ্ঞান। বাবা ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ছেলের ক্রিকেটের নেশা সম্পর্কে জানতেন, তাই কখনও কঠোর হননি।
মাহিদুলের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে বড় অবদান ইমন দাসের। ২০০৯ সালে তার বন্ধুরা গোপীবাগের বেঙ্গল টাইগার্স ক্রিকেট একাডেমির এই কোচের কাছে ক্রিকেট শিখতো। একদিন বন্ধুদের সঙ্গে অনুশীলনে যান মাহিদুল, আর তার খেলা পছন্দ হয়ে যায় ইমন দাসের। শুরুর দিকে বাবা-মাকে না জানিয়ে কোচিং করতে যেতেন মাহিদুল।
ঢাকা মেট্রোর অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে ভালো পারফর্ম করা মাহিদুল শুরুতে উইকেটরক্ষণে মনোযোগী ছিলেন বেশি। ঢাকা মেট্রোর অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ দলে ডিসমিসালের রেকর্ড গড়ার পর তার উপলব্ধি হয়, ব্যাটিংয়ের হাত ভালো না হলে টিকে থাকা কঠিন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পাওয়ার পর ব্যাটিংয়ে উন্নতির দিকে মনোযোগ দিয়েছেন তিনি।
একান্ত সাক্ষাৎকারে মাহিদুল ইসলাম
বাংলা ট্রিবিউন: প্রথম কোচ ইমন দাস আপনাকে কীভাবে সাহায্য করেছেন?
মাহিদুল: আমার ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে ইমন ভাইয়ের বিশাল ভূমিকা। তিনি না থাকলে আমি কখনোই ক্রিকেটার হতে পারতাম না। তিনি ক্রিকেট চর্চার পাশাপাশি আমাকে পড়াশোনা চালিয়া যেতে সাহায্য করেছেন। সকালে ক্লাস থাকলে বিকালে আমাকে একা একা অনুশীলন করিয়েছেন তিনি। তার ঋণ শোধ করা যাবে না। ইমন ভাইয়ের সাপোর্টের কারণে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখতে পেরেছি।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কোনও বাধা ছিল কী?
মাহিদুল: আমি ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো ছাত্র ছিলাম। এসএসসিতে ‘গোল্ডেন এ-প্লাস’ পেয়েছি, এইচএসসিতেও ভালো রেজাল্ট করেছি। তাই পড়াশোনা নিয়ে বাসার কেউ কিছু বলতো না। ক্রিকেটের প্রতি নেশা থাকলেও চেষ্টা করতাম, পড়াশোনা ঠিকমতো করার। তাই আব্বু-আম্মু-ভাইয়া আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে, কখনও ক্রিকেট খেলতে বাধা দেয়নি।
বাংলা ট্রিবিউন: শুধু উইকেটকিপার হিসেবে দলে টিকে থাকা কতটা কঠিন?
মাহিদুল: উইকেটকিপিং খুব কঠিন কাজ। আমি ছোটবেলা থেকে ভালো কিপিং করলেও ব্যাটিংও তেমন ভালো করতে পারতাম না। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পাওয়ার পর মনে হয়, শুধু কিপিং করে দলে টিকে থাকা কঠিন। এরপরই ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেই।
বাংলা ট্রিবিউন: নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে দলের ব্যাটিং নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
মাহিদুল: গত বছর এশিয়া কাপ এবং বিকেএসপি, সিলেট, চট্টগ্রামে সব অনুশীলন ম্যাচে আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো খেলেছে। আশা করি, তাদের ভালো ব্যাটিং অব্যাহত থাকবে। আমিও চেষ্টা করবো দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার। বিশ্বকাপে আমার নিজের কিছু পরিকল্পনা আছে, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।
বাংলা ট্রিবিউন: গতবার ঘরের মাঠে অনেক সম্ভাবনা থাকলেও যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হেরে যায় বাংলাদেশ। এবার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে?
মাহিদুল: দেশে আর বিদেশে খেলার চ্যালেঞ্জ ভিন্ন। আমরা টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার বেশ আগেই নিউজিল্যান্ডে এসেছি। অনুশীলন ভালোই হচ্ছে, যদিও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেই হেরেছি। তবে কন্ডিশন সম্পর্কে আমরা ভালোই ধারণা পাচ্ছি। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করতে চাই। আপাতত আমাদের ফোকাস নামিবিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের দিকে। আশা করি, টুর্নামেন্টে ভালো করতে পারবো।
বাংলা ট্রিবিউন: ওটাগোর বিপক্ষে তৃতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ৫২ রানের দারুণ এক ইনিংস এসেছে আপনার ব্যাট থেকে। এটা নিশ্চয়ই বিশ্বকাপে আপনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে?
মাহিদুল: অবশ্যই, রান পেলে সব ব্যাটসম্যানেরই আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। নিউজিল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো।
বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশের নুরুল হাসান সোহান আর ভারতের বিরাট কোহলি আপনার প্রিয় ক্রিকেটার কেন?
মাহিদুল: অনূর্ধ্ব-১৬ দলে খেলার সময় প্রথম সোহান ভাইয়ের খেলা দেখেছিলাম। তিনি তখন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছিলেন। আমার কোচ ইমন ভাই আর সোহান ভাই ওল্ড ডিওএইচএসের হয়ে খেলতেন। সোহান ভাইয়ের কিপিং খুব ভালো লাগে। আমি তার চেয়ে ভালো উইকেটকিপার হতে চাই। বিরাট কোহলিকে ভালো লাগে তার আগ্রাসনের কারণে। কোহলির ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।
প্রোফাইল
নাম: মাহিদুল ইসলাম
ডাক নাম: অঙ্কন
বাবা: আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া
মা: হোসনে আরা বেগম
জন্ম: ৪ মে ১৯৯৯
জন্মস্থান: ঢাকা
উচ্চতা: ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি
পড়াশোনা: তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় কামিল
প্রথম ক্লাব: মাতুয়াইল ক্রিকেট একাডেমি
বর্তমান ক্লাব: ওল্ড ডিওএইচএস
ব্যাটিং স্টাইল: ডানহাতি ব্যাটসম্যান
প্রিয় শট: কাভার ড্রাইভ
প্রিয় মানুষ: ইমন ভাই
প্রিয় ক্রিকেটার: নুরুল হাসান সোহান ও বিরাট কোহলি
প্রিয় ফুটবলার: জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ
প্রিয় ফুটবল দল: বার্সালোনা
প্রিয় বন্ধু: সেন্টু
ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত: একটা প্রস্তুতি ম্যাচে শেষ ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতানোর পাশাপাশি সেঞ্চুরিও পূরণ করেছিলাম।
ছবি-নাসিরুল ইসলাম







