১৬৮ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হতে হতো বাংলাদেশের। ভরসা ছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হলেন তিনি। মুজিব উর রহমানের রাউন্ড দ্য উইকেটে বল বাংলাদিশ ওপেনারের পেছনের পায়ে লাগলে আম্পায়ার আউট দেন। তারপর চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ নবীর বলে মোহাম্মদ শাহজাদের গ্লাভসে ধরা পড়েন সাকিব আল হাসান (১৫)। ৪ ওভারে ২ উইকেটে ২৪ রান বাংলাদেশের।
তার আগে ব্যাট করতে নেমে মাহমুদউল্লাহর জোড়া আঘাতে চাপে পড়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু ডেথ ওভারে সুবিধা করতে পারলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। সামিউল্লাহ সেনওয়ারি ও শফিকউল্লাহর শেষ দিকের ঝড়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৭ রান করে আফগানরা।
১৪তম ওভারে মাহমুদউল্লাহ তার প্রথম ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন। কিন্তু আসগর স্তানিকজাইয়ের সঙ্গে সামিউল্লাহ ৪.১ ওভারে ৪৪ রানের ঝড়ো জুটি গড়েন। ১৮তম ওভারে চার বলে দুটি চার ও ছয় মেরে আবু জায়েদ রাহীকে উইকেট দেন সামিউল্লাহ। ১৮ বলে তিনটি করে চার ও ছয়ে ৩৬ রান করেন তিনি।
এরপর স্তানিকজাইয়ের সঙ্গে মাত্র ৯ বলে ২৫ রানের জুটি গড়েন শফিকউল্লাহ। শেষ ওভারে প্রথম দুই বলে ছয় মেরে তৃতীয় বলে আউট হন তিনি। মাত্র ৮ বলে এক চার ও ৩ ছয়ে ২৪ রান করেন শফিকউল্লাহ। এক বল পরে ওয়াইড বলে রানআউট হন স্তানিকজাই। ২৪ বলে ২৫ রান করেন আফগান অধিনায়ক। পরের বলে করিম জানাত রানের খাতা না খুলে আউট হন। শেষ বলে রশিদ ছয় মেরে রানটা আরও বাড়িয়ে নেন।
তার আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু পাওয়ার প্লের ফায়দা নিয়ে পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়ে দুই আফগান ওপেনার উসমান ঘানি ও মোহাম্মদ শাহজাদ। উসামনকে ফিরিয়ে রুবেল হোসেন ওই জুটি ভাঙার পর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা শাহজাদকে নিজের শিকার বানান সাকিব আল হাসান। এক ওভার বিরতি দিয়ে মাহমুদউল্লাহ তুলে নিয়েছেন আফগানিস্তানের তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে উসমানের লেগ স্টাম্প ভেঙে দেন রুবেল। নবম ওভারের তৃতীয় বলে ভাঙে ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটি। উসমান ২৪ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ২৬ রান করেন।
৩.৩ ওভারে আসগর স্তানিকজাইয়ের সঙ্গে ২৪ রানের জুটি গড়া শাহজাদ ৩৮ রানে সাকিবের হাতে জীবন পান। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ফিরতি ক্যাচ ধরতে পারেননি বাংলাদেশি অধিনায়ক। তবে ওই ওভারের শেষ বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ হন শাহজাদ। ৩৭ বলে ৫টি চারে ৪০ রান করেন আফগান ওপেনার।
১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত করেন মাহমুদউল্লাহ। নিজের প্রথম ওভারে দ্বিতীয় ও পঞ্চম বলে নাজিবউল্লাহ জাদরান ও মোহাম্মদ নবীকে ফেরান তিনি। মাত্র ৫ বল খেলে ২ রান করে থার্ড ম্যানে দাঁড়ানো আবু জায়েদ রাহীর হাতে ক্যাচ দেন নাজিবউল্লাহ। নিজের দ্বিতীয় বলে রানের খাতা না খুলে বোল্ড হন নবী।এনিয়ে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। ২০১৪ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে ঘরের মাঠে ৯ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে এতদিন পর প্রেক্ষাপট, রণকৌশল আর শক্তিমত্তার অনেক কিছুই বদলে ফেলেছে আফগানরা। যার প্রমাণ দিয়ে রেখেছে প্রস্তুতি ম্যাচে। আফগানিস্তান ‘এ’ দল সাকিবের বাংলাদেশকে হারিয়েছে ৮ উইকেটে।
বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, রুবেল হোসেন, আবুল হাসান, নাজমুল ইসলাম ও আবু জায়েদ রাহী।
আফগানিস্তান দল: মোহাম্মদ শাহজাদ (উইকেটরক্ষক), উসমান ঘানি, আসগর স্তানিকজাই (অধিনায়ক), শফিকউল্লাহ, নাজিবউল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ নবী, সামিউল্লাহ সেনওয়ারি, রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, করিম জানাত ও শাপুর জাদরান।








