চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২০৫ রানে অলআউট হওয়ায় পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে আফগানিস্তান। স্কোর ৬৬ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৩, লিড ৩১০ রানের।
প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে রেকর্ডের খাতায় নাম তুলেছেন রহমত শাহ। দেশটির দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান দেখারও জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পারলেন না ইব্রাহিম জাদরান। ৮৭ রানে তিনি আউট হয়ে গেছেন নাঈম হাসানের বলে।
চট্টগ্রামের ম্যাচ দিয়েই টেস্ট অভিষেক হয়েছে ইব্রাহিমের। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সেঞ্চুরির পথেও হাঁটছিলেন তিনি। কিন্তু ৮৭ রানে আউট হয়ে গেছেন আফগান ব্যাটসম্যান। নাঈমের বলে লং অনে ধরা পড়েন তিনি মুমিনুল হকের হাতে।
দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ১ উইকেট
কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে বাংলাদেশের বোলারদের। সকালে অলআউট হওয়ার পর লাঞ্চের আগে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকরা দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিলেও হয়নি তা। দ্বিতীয় সেশনে তুলতে পেরেছে মাত্র ১ উইকেট।
তৃতীয় দিনের চা বিরতিতে যাওয়ার আগে আফগানিস্তানের লিড হয়েছে ২৯৩ রানের। লাঞ্চের পর হারিয়েছে কেবল আসগর আফগানের উইকেট। হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সেঞ্চুরির পথে হাঁটছেন ইব্রাহিম জাদরান। তার অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংসের সঙ্গে ৪ রানে ব্যাট করছেন আফসার জাজাই।
স্বস্তি ফেরালেন তাইজুল
আফগান প্রতিরোধ ভেঙে স্বস্তি ফেরালেন তাইজুল ইসলাম। এই স্পিনারের বলে আসগর আফগানের আউটে চতুর্থ উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
কিছুতেই ভাঙা যাচ্ছিল না ইব্রাহিম জাদরান ও আসগর আফগানের জুটি। লাঞ্চের পর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটি ভেঙেছেন তাইজুল। সাকিব আল হাসানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে তিনি ফিরিয়েছেন আসগরকে। হাফসেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যানের বিদায়ে ভাঙে ইব্রাহিমের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে গড়া ১০৮ রানের জুটি। আসগর তার ৫০ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায়।
লিড বাড়িয়ে নিচ্ছেন ইব্রাহিম-আসগর
লাঞ্চ থেকে ঘুরে এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছে আফগানিস্তান। দুই ব্যাটসম্যান ইব্রাহিম জাদরান ও আসগর আফগান বাড়িয়ে নিচ্ছেন লিড। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৫০ ছাড়ানো জুটিতে ১০০ ছাড়িয়েছে দলীয় স্কোর। ইতিমধ্যে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেছেন ইব্রাহিম।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৫ ওভার শেষে আফগানদের রান ৩ উইকেটে ১৩৩, লিড হয়েছে ২৭০ রানের।
লাঞ্চের আগে আফগানিস্তানের লিড ১৯৩
তাতে তৃতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে আফগানিস্তান লিড নিয়েছে ১৯৩ রানের। ক্রিজে আছেন ইব্রাহিম জারদান (২৪*) ও আসগর আফগান (১৬*)। ২ উইকেটে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, অন্যটি নাঈম হাসানের শিকার।
নাঈমের শিকারে আফগানদের নেই ৩ উইকেট
সাকিব আল হাসানের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে যাচ্ছিল আফগানিস্তান। তবে প্রতিরোধ টিকলো না নাঈম হাসানের আঘাতে। এই স্পিনারের বলে ফিরে গেছেন হাশমতউল্লাহ শহীদি।
তাতে তৃতীয় উইকেট হারালো সফরকারীরা। নাঈমের বলে দারুণ ক্যাচে হাশমতউল্লাহকে ফিরিয়েছেন সৌম্য সরকার। এই স্পিনারের বাঁক নেওয়া ডেলিভারি হাশমতউল্লাহর ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের পায়ে লেগে আশ্রয় নেয় সৌম্যর হাতে। আফগান এই ব্যাটসম্যান ৩৭ বলে করেছেন ১২ রান।
প্রথম ওভারেই সাকিবের জোড়া আঘাত
প্রথম ইনিংসে মাত্র ২০৫ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের বোলিংয়ের শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। বল হাতে তুলে নেওয়া সাকিব আল হাসান প্রথম ওভারেই পেয়েছেন ২ উইকেট।
প্রথম ইনিংস শেষে ১৩৭ রানে পিছিয়ে থাকায় বাংলাদেশের দারুণ বোলিংয়ের শুরু প্রয়োজন ছিল। সেটা পূরণে সাকিবই শুরু করেন বোলিং। প্রথম ওভারেই করেন বাজিমাত। টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন তিনি।
আফগানদের দ্বিতীয় ইনিংসের তৃতীয় বলে এলবিডাব্লিউ করে সাকিব ফেরান ইহসানউল্লাহকে (৪)। পরের বলে আবারও উইকেট বাংলাদেশ অধিনায়কের। এবার তার শিকার প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রহমত শাহ। নিজের মুখোমুখি প্রথম বলে সাকিবের কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান।
২০৫ রানে অলআউট বাংলাদেশ
তৃতীয় দিনের শুরুতে মোটে ৪ ওভার ব্যাট করতে পারলো বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা অলআউট হয়েছে ২০৫ রানে। আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৩৭ রানে পিছিয়ে থাকতে হলো সাকিব আল হাসানদের।
মোসাদ্দেক হোসেন অপরাজিত থাকলেও সঙ্গীর অভাবে কিছুই করতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন ৪৮ রানে। তৃতীয় দিনে মাত্র ১১ রান যোগ করতে শেষ ২ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
আগের দিনের ৮ উইকেটে ১৯৪ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের চাওয়া ছিল, অপরাজিত থাকা মোসাদ্দেক ও তাইজুল যেন আরও অনেকটা সময় থাকতে পারেন ক্রিজে। কিন্তু দিনের প্রথম ওভারেই ফিরে যেতে হয় তাইজুলকে।
দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে প্রতিরোধ গড়লেও তৃতীয় দিনের তৃতীয় বলে হার মানেন তাইজুল। মোহাম্মদ নবীর বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। যাওয়ার আগে ৫৮ বলে খেলেন ১৪ রানের ইনিংস।
তার বিদায়ের পর নাঈম হাসানের শুরুটা ভালো হলেও বেশিদূর যেতে পারেননি। ১২ বলে ৭ রান করে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। তাকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেটের ঘর পূরণ করেন রশিদ খান। ৫৫ রানে আফগান অধিনায়ক নিয়েছেন ৫ উইকেট। মোহাম্মদ নবীর শিকার ৩ উইকেট।








