ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বারুদে উত্তেজনা। সৌরভ গাঙ্গুলি ও সাকলায়েন মুশতাকের দ্বৈরথও সুখকর হওয়ার কথা নয়। খেলোয়াড়ি জীবনে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে তাদের। মাঠের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁঝ থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে কিন্তু বিষয়টা ভিন্ন। সেই গল্প শোনাতে গিয়েই পাকিস্তানের কিংবদন্তি স্পিনার জানালেন, মাত্র ৪০ মিনিটেই তার মন জয় করে নিয়েছিলেন সৌরভ।
ব্যাট-বল ছেড়েছেন তারা অনেক আগেই। খেলোয়াড়ি জীবনের পাট চুকিয়ে সাকলায়েন কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছেন। আর কিছুদিন আগেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতির পদে বসেছেন সৌরভ। তারা সাবেক হলেও ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট লড়াইয়ের উত্তেজনা কিন্তু আছে আগের মতোই। মাঠের বাইরেও সেটা সমানভাবে বহমান। এই যেমন সৌরভের চারজাতির ‘সুপার সিরিজ’ আয়োজনের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। তিনি মনে করেন, ক্রিকেট বিশ্বে তিন মোড়লের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনার মতোই মার খাবে প্রস্তাবিত এই টুর্নামেন্ট।
রশিদের সমালোচনার মধ্যেই সৌরভের প্রশংসা ঝরল আরেক পাকিস্তানি সাকলায়েনের কণ্ঠে। ২০০৫-০৬ মৌসুমে ভারতের ইংল্যান্ড সফরের ঘটনা টেনে এনেছেন সাবেক স্পিনার। শুরুটা করেছেন তিনি এভাবে, ‘ভারত তখন ইংল্যান্ড সফরে। আমি খেলতাম সাসেক্সে। তাদের তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল সাসেক্সের বিপক্ষে, সৌরভ অবশ্য ওই ম্যাচটিতে খেলেনি। এটা মনে হয় ২০০৫-০৬ সালের কথা। দুই হাঁটুর অস্ত্রোপচারে আমাকে ৩৬-৩৭ সপ্তাহ শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল।’
সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় ভারত ও সাসেক্সের ট্যুর ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন সাকলায়েন। সেখানেই তার মন জিতে নিয়েছিলেন সৌরভ। কিভাবে? সাকলায়েনের বর্ণনা, ‘সাসেক্সের ব্যাটিংয়ের সময় সৌরভ ব্যালকনি থেকে আমাকে দেখে, আমি অবশ্য দেখতে পাইনি। সৌরভ আমাদের ড্রেসিং রুমে আসে এবং কফির অফার করে। সেখানেই আমার হাঁটুর অবস্থা, জীবন ও পরিবার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয় সে। এভাবেই আমাদের কথা শুরু। সে আমার সঙ্গে ৪০ মিনিট বসেছিল এবং সবশেষে আমার মন জিতে নেয়।’
অধিনায়কের মতো বিসিসিআই সভাপতি হিসেবেও সৌরভ সফল হবেন বলে মনে করেন এই কিংবদন্তি স্পিনার, ‘ভারতের অধিনায়ক হিসেবে সৌরভ দুর্দান্ত কাজ করেছে। আমি নিশ্চিত বিসিসিআই সভাপতি হয়েও সে তার দেশের ক্রিকেটকে অনেক দূর এগিয়ে নেবে। শুভকামনা থাকলো, এগিয়ে যাও।’








