পার্থক্যটা ১৯ দিনের! তবে মাঝখানে মহাকালের ক্যালেন্ডারে ২০২০ পেরিয়ে এসেছে ২০২১। সেই হিসাবে প্রায় একবছর পর আবার টেস্ট আঙিনায় বাংলাদেশ। ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট দিয়ে যে দ্বার ‘বন্ধ’ হয়েছিল, চট্টগ্রামে সেটি খুলছে। বুধবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেটে ফিরছে মুমিনুল হকরা।
সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে বিটিভি, টি স্পোর্টস ও নাগরিক টেলিভিশনের পর্দায়।
টেস্টে বাংলাদেশের ‘দ্বিতীয় অভিষেক’ বললেও সম্ভবত ভুল হবে না। সময়ের স্রোতে বছর ঘুরে গেলেও সেই ফেব্রুয়ারির পর আর লাল বলে খেলার সুযোগ হয়নি মুমিনুল-মুশফিকদের। করোনাভাইরাসের কারণে একের পর এক সিরিজ স্থগিত হয়েছে। যার মধ্যে সবার আগে আসবে শ্রীলঙ্কা সিরিজ। কয়েক দফা আলোচনার পরও তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি হয়নি। তা না হলে করোনা বিরতির পর টেস্ট দিয়েই প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতো বাংলাদেশ।
সেটি না হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে মাঠে ফিরেছে টাইগাররা। দাপুটে পারফরম্যান্সে ৩-০ ব্যবধানে ৫০ ওভারের সিরিজ জিতে নেওয়ার পর এবার টেস্টের চ্যালেঞ্জের পালা। ওয়ানডে দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিলেও কে না জানে টেস্টের আঙিনা পুরোটাই আলাদা জায়গা। লম্বা সময় বাইরে থাকলেও সেই চ্যালেঞ্জ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত মুমিনুলরা।
করোনা বিরতির পর বাংলাদেশ প্রথমবার টেস্টে নামতে গেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলে ফেলেছে পাঁচ টেস্ট। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এই সময়ে প্রথম শ্রেণিরও কোনও ম্যাচ খেলেননি। সেইদিক থেকে দেখলে এই জায়গায় এগিয়ে থাকছে ক্যারিবিয়ানরা।
এরপরও সফরকারী কোচ ফিল সিমন্স ‘ফেভারিটের’ তকমা সেঁটে দিয়েছেন বাংলাদেশের গায়ে। কারণ মুমিনুলরা খেলবেন ঘরের মাঠে। নিজেদের কন্ডিশনে বাংলাদেশ কতটা শক্তিশালী, গত কয়েক বছরে তার অনেক প্রমাণ রেখেছে তারা। স্পিন-সহায়ক পিচে স্বাগতিকদের আরও ‘প্লাস পয়েন্ট’ সাকিব আল হাসানের ফেরা। একবছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়েই পাঁচ দিনের ক্রিকেটে ফিরছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার।
সাম্প্রতিক সময়ে একাদশ নির্বাচনে স্পিনারদের আধিক্য দেখা গেছে। সাকিব ফেরায় তার সঙ্গে স্পিন আক্রমণে আরও থাকছেন তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান। এই চারের একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। তবে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট যেহেতু দেশের মাটিতেও দুই পেসার খেলানোর পক্ষে, তাই চট্টগ্রাম টেস্টে তিন স্পিনার দেখার সম্ভাবনাই প্রবল।
অধিনায়ক মুমিনুল অবশ্য স্পিন আক্রমণে কয়জন থাকছেন, সেটি গোপন রেখেছেন, ‘উইকেটের কন্ডিশন বুঝে ওভাবেই দল সাজানো হয়। কন্ডিশন বুঝে, উইকেট বুঝে তখন ওভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
এদিকে সাকিবকে নিয়ে শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল যদিও আশার কথা শুনিয়ে গেছেন। কুঁচকির চোটের কারণে বেশ কয়েকদিন অনুশীলনের বাইরে থাকা সাকিব প্রসঙ্গে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, উনি (সাকিব) একের ভেতর দুই। উনি থাকলে টিম কম্বিনেশন ভালো হয়। ব্যাটিং বলুন বোলিং বলুন, দল সাজানো অধিনায়কের জন্য সহজ হয়। তরুণ অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার জন্য ভালো একটা সুযোগ। আমি তো আশা করি খেলবে।’
শুধু মুমিনুল নন, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও আশায় আছেন টেস্টে সাকিবের প্রত্যাবর্তন দেখার। সময়ের সংখ্যায় চট্টগ্রামের এই টেস্টটি বাংলাদেশেরও তো ‘প্রত্যাবর্তনের’!









