দারুণ এক ইনিংসের সমাপ্তি চমৎকার এক ক্যাচে। প্রয়োজনের সময় দলের হাল ধরা নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হয়ে গেছেন। শাদাব খানের রিটার্ন ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তিনি।
আজ (শনিবার) শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিকদের স্কোর ১৪ ওভারে ৫ উইকেটে ৮৩ রান।
বলতে গেলে একেবারে শুরুতেই ক্রিজে আসতে হয় শান্তকে। ইনিংসের পঞ্চম বলে সাইফ হাসান প্যাভিলিয়নে ফিরলে তিন নম্বরে নামেন বাঁহাতি ব্যাটার। চাপের মধ্যেও পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেছেন। বল বুঝে রক্ষণাত্মক হয়েছেন যেমন, তেমনি হাত খুলে চমৎকার সব শট খেলেছেন। কিন্তু শাদাব খানের ঝাঁপিয়ে পড়া ক্যাচে ৪০ রানে থামতে হয় তাকে।
শাদাবের বল লেগ সাইডে ঠেলে দিয়েছিলেন শান্ত। কিন্তু বোলিং পজিশন থেকে বেশ খানিকটা দূর ঝাঁপিয়ে বল তালুতে জমান শাদাব নিজেই। ৪০ রানে থামা শান্ত ৩৪ বলের ইনিংসটি সাজান ৫ বাউন্ডারিতে।
মাহমুদউল্লাহর বিদায়
আবারও ব্যর্থ মাহমুদউল্লাহ। ক্রিজে আসার পরই আউটের সিদ্ধান্ত দেখতে হয়েছিল। যদিও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ১২ রান করে আউট হয়ে গেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
দলে একমাত্র সিনিয়র খেলোয়াড় তিনি। তার ওপর আবার অধিনায়ক। বাড়তি দায়িত্বে মাহমুদউল্লাহ যেন আরও চাপে। দলের প্রয়োজনের সময় আরেকবার মুখ লুকালেন। হারিস রউফের বলে উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি। ১৫ বলে খেলা ১২ রানের ইনিংসে মেরেছেন একটি বাউন্ডারি।
ক্যাচ প্র্যাকটিস করালেন আফিফ!
ভালো খেলতে খেলতে উইকেট বিলিয়ে আসার ঘটনা আগের ম্যাচেও দেখা গিয়েছিল আফিফ হোসেনের ‘সৌজন্যে’। সেই আফিফ আবারও সম্ভাবনাময় এক ইনিংসের সমাপ্তি টানলেন সফট ডিসমিসালে। যেভাবে আউট হলেন যেন উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ক্যাচ প্র্যাকটিস করালেন বাঁহাতি ব্যাটার!
শাদাব খানের বলে আউট হয়ে গেছেন আফিফ। দ্রুত দুই ওপেনারের বিদায়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন এই ব্যাটার। চমৎকার সব শটে বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শাহীন আফ্রিদিকে মারা ছক্কাটি ছিল দেখার মতো। কিন্তু ভালো খেলতে খেলতেই খেই হারালেন আফিফ। শাদাবের বলে রিভার্স প্যাডেলের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বল তার ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে উঠে যায়। সহজ ক্যাচটি গ্লাভসে নিতে কোনও অসুবিধাই হয়নি রিজওয়ানের।
হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে আফিফ ২১ বলে করেন ২০ রান। ইনিংসটি সাজান ১ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।
৫ রানে দুই ওপেনারকে হারালো বাংলাদেশ
টপ অর্ডার ব্যর্থ হওয়ার পরও একাদশে কোনও পরিবর্তন আনেনি বাংলাদেশ। প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও ইনিংস শুরু করেছেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও নাঈম শেখ। আগের ম্যাচের মতোই পরিণতি তাদের, তাই ভাগ্য বদলায়নি বাংলাদেশের। ৫ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়েছে।
কিছুই করতে পারেননি সাইফ। শুক্রবার অভিষেক ম্যাচের ব্যর্থতা আরও বেশি করে জেঁকে বসেছিল তার ঘাড়ে। সে কারণেই হয়তো শাহীন আফ্রিদির সামনে মুখোমুখি প্রথম বলেই ফিরতে হলো সাজঘরে। পাকিস্তানি পেসারের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়েছেন ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে। রানের খাতা খুলতে না পারা এই ওপেনারের বিদায়ে কোথায় নাঈম দলের হাল ধরবেন, তা নয়, উল্টো তিনিও ফিরে গেলেন।
মাত্র ২ রান করে মোহাম্মদ ওয়াসিমের শিকার নাঈম। বের হয়ে যাওয়া বল তার ব্যাটে লেগে গেলে প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো ফখর জামান নেন দারুণ এক ক্যাচ। তাতে ৮ বলে মাত্র ২ রান করে ফিরে যান বাঁহাতি ওপেনার।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যর্থতা কাটিয়ে শুক্রবার নতুন মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেয়ে টানা ৬ হারের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে মাহমুদউল্লাহর দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে হলে আজ (শনিবার) দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচের একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ দল। আগের মতোই তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে সাজানো হয়েছে একাদশ।
অন্যদিকে পাকিস্তান একটি পরিবর্তন এনেছে। পেসার হাসান আলীকে বিশ্রাম দিয়ে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত বোলিং করা শাহীন শাহ আফ্রিদিকে।
বাংলাদেশ একাদশ: মোহাম্মদ নাঈম শেখ, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটকিপার), শেখ মেহেদী হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।
পাকিস্তান একাদশ: বাবর আজম (অধিনায়ক), শাদাব খান, ফখর জামান, হায়দার আলী, হারিস রউফ, শাহীন শাহ আফ্রিদি, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, শোয়েব মালিক।









