দিনেশ রামদিন-লেন্ডল সিমন্স-রবি রামপালরা যা পারেননি তা করে দেখিয়েছেন হেটমেয়ার-কার্টি-পলরা। প্রথম বারের মতো ছোটদের বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলো তারা। রবিবার তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শেষ হাসি হেসেছে ক্যারিবীয় যুবারা।
এক যুগ আগে ২০০৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতেই প্রথম ফাইনাল খেলেছিল দিনেশ রামদিন-লেন্ডল সিমন্স-রবি রামপালদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব দল। কিন্তু সেবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৫ রানে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদেরকে।
২০০৪ সালে খেলা অনেকেই এখন খেলছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলে। তারা আক্ষেপ ঘোচাতে না পারলেও এক যুগ এবং যুব বিশ্বকাপের এগারোতম আসরে এসে সেই আক্ষেপ ঘোচালেন তরুণ ক্যারিবীয়রা। ম্যাচ জিতে মাঠের মধ্যে নৃত্য পরিবেশনা শুরু করে দলটি। সাধারণ গ্যালারির দর্শকদের সামনে গিয়ে মিরপুরের সবুজ ঘাসে স্লিপ করে উল্লাস প্রকাশ করেন তারা। এমনটা হওয়ারই কথা। যুবাদের ক্রিকেটে সেরার মুকুট এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাথায়।
অথচ ক্যারিবীয়দের এই দলটি নিয়ে কেউ বিন্দুমাত্রও ভাবেননি তারা এতোদূর আসবে। গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ের কাছে হারতে হারতে ‘বিতর্কিত’ ম্যানক্যাড আউটে নকআউট পর্বে ওঠে আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তান এবং সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে রবিবার ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় বারের মতো ফাইনাল খেলছে তারা।
ভারতের দেওয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় পাঁচ রান স্কোর বোর্ডে উঠতেই নেই এক উইকেট। বাংলাদেশের বিপক্ষে দানবীয় ইনিংস খেলা গিড্রন পোপে ব্যক্তিগত ৩ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন আভিষ খানের বলে। তেভিন ইমলাখ ও অধিনায়ক হেটমেয়ার বড় জুটির পথেই এগুচ্ছিলেন। কিন্তু খলিল আহমেদের বলে তিনিও ১৫ রানে সাজঘরে ফেরেন।
তৃতীয় উইকেটে হেটমেয়ার ও কার্টি মিলে ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। হেটমেয়ার ৫৩ বলে ২৩ রান করে আউট হন। দলীয় ৭১ রানের মধ্যে স্প্রিংগারও(৩) ফিরে যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যান চলতি টুর্নামেন্টে ২৮৫ রান করে পঞ্চম স্থানে আছেন।
৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ভারতের দিকে হেলে পড়ে। কিন্তু অন্য প্রান্তে অবিচল থাকা ক্যাচি কার্টির কারণেই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ভারত। ৬ষ্ঠ উইকেটে ক্যাচি কার্টি ও ক্যামো পল মিলে ৬৯ রানের জুটি গড়েন। কার্টি ১২৫ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে পল ৬৮ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন।
ভারতের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নিয়েছেন মায়াঙ্ক দাগার। তিনি ১০ ওভারে ২৫ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া আভিষ খান ও খলিল আহমেদ প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পাওয়া ভারত নির্ধারিত ওভারের ২৯ বল আগেই ১৪৫ রানে অলআউট হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ হানতে থাকে ক্যারিবীয় পেস বোলাররা। যুব বিশ্বকাপে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের ভারতকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছেন তারা।
মাত্র ৪১ রানেই সাজঘরে ফেরেন ভারতের চার ব্যাটসম্যান। উইন্ডিজের উদ্বোধনী জোসেফ নিজের প্রথম চার ওভারে, আরও নির্দিষ্ট করে বললে ১৯ বলের মধ্যেই তুলে নেন তিন উইকেট। অল্প কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়লেও ৭ রান করে ফেরেন ওয়াশিংটন ওজনের শিকার হয়ে।
ভারতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান এসেছে সরফরাজ খানের ব্যাট থেকে। তিনি ৮৯ বলে ৫ চার ও এক ছয়ে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন। সরফরাজ ছাড়া মাত্র দুইজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। এরা হলেন মাহিপাল ল্যোমার (১৯) ও রাউল বাথাম (২১)।
এদিন ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে বাজে দিন কেটেছে ভারতীয় যুবাদের। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ৩টি সহজ ক্যাচ মিস করেছেন ফিল্ডাররা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের মধ্যে জোসেফ ৩৯ রান খরচ করে ৩টি ও রায়ান জন ৩৮ রানে ৩টি উইকেট নিয়েছেন। ক্যামো পল ৬.১ ওভার করে ১৭ রান খরচ করে নেন দুটি উইকেট। এছাড়া হোল্ডার ও স্প্রিঙ্গার প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
বিশ্বকাপের আগেও বাংলাদেশের কাছে তিন ম্যাচ সিরিজের সবগুলোই হেরেছে ক্যারিবিয়ানরা। উপমহাদেশীয় কন্ডিশন যেন দুর্বোধ্য এক ধাঁধা হয়ে এসেছিল তাদের কাছে। সেই ধাঁধা খুব সহজেই আয়ত্ত্ব করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের যুবারা।
এদিকে ভারত এই নিয়ে পঞ্চম বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলছে। তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তিনবার। ২০০৬ সালে পাকিস্তানের পর ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ফাইনালে ধরাশায়ী হয়েছে ভারতের যুবারা।
/আরআই/এফআইআর/








