বিপিএলে আজ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ফরচুন বরিশাল ইনিংসের শুরুতেই ডাগআউটের বাইরে থেকে দুই ব্যাটারকে উঠে আসতে বলেছিলেন। তারা না এলে ঢুকে পড়েন মাঠে। পরে আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্কেও জড়িয়েছেন। সাকিব কাণ্ডে প্রায় ৫ মিনিটের মতো খেলা বন্ধ ছিল। শেষমেশ সাকিবকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরত পাঠানো হয়। ম্যাচের পর ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।
তখন ইনিংসের শুরুতে বাউন্ডারি রোপের বাইরে থেকে দুই ব্যাটারকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছিলেন সাকিব। বল হাতে বোলিং করার জন্য তৈরি ছিলেন রংপুরের বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান। সাকিব আচমকা তখন মাঠের বাইরে থেকে চতুরঙ্গ ডি সিলভাকে স্ট্রাইকিং প্রান্তে যেতে বলেন। বিষয়টা এখানেই থেমে থাকেনি। রংপুর আবার বোলিং প্রান্তে পরিবর্তন আনলে স্ট্রাইকে চলে যান এনামুল। তখন আবার বল তুলে দেওয়া হয় শেখ মেহেদী হাসানের হাতে। কিছুক্ষণ এভাবে চলার পর মেজাজ হারিয়ে বসেন সাকিব। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হাসান সোহান জানিয়েছেন, সাকিব বাইরে থেকে কথা বলাতেই ঘটনা এতদূর গড়িয়েছে।
সাধারণত অধিনায়করা বাঁহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে অফস্পিনার এবং ডানহাতি ব্যাটারদের ক্ষেত্রে বাঁহাতি স্পিনারদের এনে থাকেন। মঙ্গলবার বরিশালের ব্যাটারদের বিপক্ষেও এমন পরিকল্পনা ছিল সোহানের। কিন্তু মাঠের বাইরে থেকে সাকিবের নির্দেশনায় বার বার বদল আনতে হয় তাকে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী ফিল্ডিং ও বোলিং সেট হওয়ার পর ব্যাটার যে কোন প্রান্তে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।
ওই সময়ের ঘটনা নিয়ে সোহান জানিয়েছেন, ‘অবশ্যই আমি চাইবো ওদের সেরা ব্যাটারের বিপক্ষে আমার সেরা বোলার বল করুক। যদি উইকেটের চিন্তা করেন এক পাশে বড় আরেক পাশে ছোট। আমি চাচ্ছিলাম আমার দলের সেরা বোলার মেহেদী বাঁহাতি ব্যাটারের বিপক্ষে বল করবে। ডান হাতির বিপক্ষে রাকিবুল। আমার কাছে মনে হয় এটা ফেয়ার এনাফ। যে জিনিসটা হয়েছে, একটা পর্যায়ে এটা হয়তো দুষ্টুমির পর্যায়ে চলে গেছে।’
কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আর দুষ্টুমির পর্যায়ে থাকেনি। সাকিব শুরুতে দুই ব্যাটারকেই উঠে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে নিজে মাঠে ঢুকে আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। দুষ্টুমিতেই ঘটনা এতদূর? এমন প্রশ্নে সোহান বলেছেন, ‘দুষ্টুমির কথা বলিনি। আমি বলেছি সাকিব ভাই যখন বাইরে থেকে কথা বলছিল, তখন আমি বোলার বদলেছি। এটা যদি ব্যাটাররা করতো, তাহলে আমিও বদলাতাম না। যখন বাইরে থেকে কথা হয়েছে, এ কারণে আমি বদলেছি। এটাকে দুষ্টামিও বলবো না। যেটা বললাম আমি চাইবো সেরা বোলার সেরা ব্যাটারের বিপক্ষে যেন বল করে।’
সোহান অবশ্য শুরুতেই বার বার বোলার পরিবর্তনের কথা বলেছেন এভাবে, ‘আমি দেখছিলাম, সাকিব ভাই বাইরে থেকে চিৎকার করছেন। এজন্য আমিও বদল আনছিলাম।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন ঘটনার জন্য শাস্তি অবধারিত। সাকিব মেজাজ হারিয়ে যেভাবে মাঠে তর্ক করেছেন, তার জন্য নিশ্চিত ভাবেই কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গ হওয়ার কথা। এ ব্যাপারে অবশ্য কোন ধারণা নেই রংপুর অধিনায়কের, ‘কোনও মন্তব্য না ভাই। আমার আসলে ধারণা নেই।’
বোলারদের এমন অদল-বদল শুরুতেই থেমে যেতে পারতো। সেটা হয়নি আম্পায়াররা শুরুতে হস্তক্ষেপ করেননি বলে, ‘আম্পায়ারের আগে বলা উচিত ছিল। আম্পায়ার তো কিছু বলেনি। আম্পায়ার কথা বললে আরও একটু আগে সমাধান হতো। আমাকে যখন বলেছে আর কোনো তর্ক করিনি। পরে তো সেটাই হয়েছে, ব্যাটাররা যা চেয়েছে।’
ডিআরএস না থাকায় আজও বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত গেছে ব্যাটারদের বিপক্ষে। ফরচুন বরিশালের ওপেনার এনামুল হক বাজে সিদ্ধান্তের বলি হয়েছেন। আউট হওয়ার পর উত্তেজিত অবস্থায় মাঠও ছেড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সোহান বলেছেন, ‘হয়তো ব্যাটার অনেক সময় চিন্তা করে কীভাবে আউট হলো বা কী হলো। আম্পায়ারের সঙ্গে ওর কী কথা হচ্ছিল তা জানি না। কারণ আমি মাঠের অন্য প্রান্তে ছিলাম।’
ডিআরএস না থাকা নিয়ে অবশ্য আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে, ‘আমার কাছে মনে হয়, আম্পায়াররা মাঠে অনেক বেশি চাপে পড়ে যাচ্ছে। প্রোপার ওয়েতে থাকলে তাদের জন্যও সুবিধা হয়। সবাই তো মানুষ, তাদের মাঠের ভেতরে একটা-দুটা ভুল হতে পারে।’









