গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের জন্য ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। কেননা এক ম্যাচ হাতে রেখেই তারা সুপার লিগ নিশ্চিত করেছে। তবে শাইনপুকুরের জন্য ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার। রেলিগেশন লিগ এড়াতে আজ জিততেই হতো। কিন্তু সফল হয়নি তারা। হাবিবুরের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে গাজী গ্রুপের দেওয়া ৩৩৪ রানের কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৭৭ রানে অলআউট হয়েছে শাইনপুকুর। তাতে ১৫৬ রানের বড় জয়ে প্রাথমিক পর্ব শেষ করেছে গাজী গ্রুপ। ১১ ম্যাচে গাজীর পঞ্চম জয়ের নায়ক সেঞ্চুরিয়ান হাবিবুর।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ৩৩৪ রানের কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৫৮ রানের মধ্যেই টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে হারায় শাইনপুকুর। বড় লক্ষ্যের বিপরীতে শুরুর বিপর্যয়ে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পঞ্চম উইকেটে শুধু অমিত হাসান ও তাজিবুল ইসলাম মিলে ৭১ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামাল দিয়েছেন। অমিত ৫৬ বলে ৪০ রানে আউট হয়েছেন। প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে গেছেন তাজিবুল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে নবম ব্যাটার হিসেবে তিনি আউট হয়েছেন। গত যুব বিশ্বকাপ দলের এই সদস্য ৮২ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৯ রান করে ফিরেছেন। প্রতিরোধ এত দুর্বল ছিল যে শেষ ৫ ব্যাটারের মধ্যে হাসান মুরাদ সর্বোচ্চ ৬ রানের ইনিংস খেলেছেন!
গাজী গ্রুপের বোলারদের মধ্যে এনামুল হক ৪১ রানে নিয়েছেন চারটি উইকেট। তাছাড়া মাহমুদুল হাসান ৩৪ রানে নিয়েছেন তিনটি উইকেট। টিপু সুলতান দুটি এবং হাবিব মেহেদী একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা গাজীর শুরুটা ছিল নড়বড়ে। ২৫ রানে ফিরেছেন দুই ওপেনার মেহেদী মারুফ (০) ও ফরহাদ হোসেন (৫)। ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সময়ও লাগেনি। তৃতীয় উইকেটে হাবিবুর রহমান ও রবি তেজা মিলে ৮৭ বলে ১০৬ রানের দারুণ জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছেন। রবি ৯০ রান করে নাবিল সামাদকে ফিরতি ক্যাচ দিলে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ৮৫ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় তিনি নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন।
রবি ১০ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেও হাবিবুর রহমান তুলে নেন সেঞ্চুরি। ৬৬ বলে ১০১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত হাসান মুরাদের ঘূর্ণিতে কাটা পড়েছেন। ১৪ চার ও ৬ ছক্কায় বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন হাবিবুর। এরপর লেট অর্ডারে মেহরাব হোসেন (৪৮), আনামুল হক (২৭), আকবর আলীর (২৬) সহায়তায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৮ উইকেটে ৩৩৩ রান করেছে।
শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে মাসুম খান টুটুল সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। হাসান মুরাদ নিয়েছেন দুটি এবং মেহেদী হাসান রানা ও নাবিল সামাদ নিয়েছেন একটি করে উইকেট।









