৮৮ রানে নেই পাকিস্তানের ৭ উইকেট। মাত্র ৩ উইকেট হাতে নিয়ে তাদের জিততে দরকার তখনও ৭৬ রান। পাকিস্তানকে সহজে হারানোর স্বপ্ন দেখছিল নিউ জিল্যান্ড। কিন্তু খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে স্বাগতিকরা ঘুরে দাঁড়ায় ইফতিখার আহমেদের ব্যাটিং তাণ্ডবে। লাহোরে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর তার অভাবনীয় ব্যাটিংয়ে লড়াই করে স্বাগতিকরা। কিন্তু নায়ক হতে পারলেন না তিনি। সোমবার নিউ জিল্যান্ডের কাছে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৪ রানে হেরে গেলো পাকিস্তান। ম্যাচটি জিতে পাঁচ টি-টোয়েন্টির সিরিজে টিকে রইলো কিউইরা।
টস জিতে আগে ব্যাটিং নেয় নিউ জিল্যান্ড। টম ল্যাথাম বাদে আর কোনও ব্যাটার সেভাবে অবদান রাখতে পারেননি। কিউই অধিনায়ক ৪৯ বলে ৭ চার ও ২ ছয়ে ৬৪ রান করেন। এছাড়া ড্যারিল মিচেলের ৩৩ রান ছিল বলার মতো। মার্ক চাপম্যান করেন অপরাজিত ১৬ রান। তিন নম্বরে নেমে উইল ইয়াংয়ের ব্যাটে আসে ১৭ রান।
৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান করেছিল নিউ জিল্যান্ড। আগের দুই ম্যাচেই একশ আশির বেশি রান করা পাকিস্তানের জন্য লক্ষ্যটা কঠিন ছিল না। কিন্তু চতুর্থ ওভারের মধ্যে বাবর আজম (১) ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৬) হারিয়ে পথহারা স্বাগতিকরা। একে একে ৫৫ রানে ৫ উইকেট হারায় তারা। পরপর দুই ওভারে ফখর জামান (১৭) ও ইমাদ ওয়াসিমকে (৩) ফিরিয়ে তাদের চাপে ফেলেন রাচিন রবীন্দ্র। ৮৮ রানের মধ্যে ফিরে যান শাহীন শাহ আফ্রিদি (৬) ও শাদাব খানও (১৬)।
জয়ের পাল্লা সফরকারীদের দিকেই ভারী ছিল। কিন্তু ইফতিখার ও ফাহিম আশরাফ ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তারা জুটি বেঁধে ঝড় তোলেন। ২০ বলে ২ চার ও ৫ ছয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেন ইফতিখার। তাদের জুটিতে ২ ওভার হাতে রেখে পাকিস্তান ব্যবধান নামায় ২৩ রানে।
ফাহিম ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারেন। তার পরের বলে ড্যারিল মিচেলকে ক্যাচ দেন তিনি। ১৪ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৭ রান করেন। ২৬ বলে ৬১ রানের জুটি ভাঙার পর শেষ ৯ বলে লাগতো ১৫ রান। নতুন ব্যাটার নাসিম শাহ দলের প্রয়োজন মেটাতে পারেননি। ওই ওভারের শেষ তিনটি বল ডট দেন ম্যাট হেনরি।
১৫ রানের প্রয়োজনে শেষ ওভারের প্রথম বলে জিমি নিশামকে ছয় মারেন ইফতিখার। দ্বিতীয় বলে রান নেননি। তৃতীয় বলে চার মেরে নিউ জিল্যান্ডের ঘাম ছুটান তিনি। চতুর্থ বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং অনে মিচেলের হাতে ক্যাচ দেন ইফতিখার। ২৪ বলে ৩ চার ও ৬ ছয়ে ৬০ রানে ফিরে যান তিনি। ওখানেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। নতুন ব্যাটার হারিস রউফ এসে ব্যাটে বল লাগাতে পারেননি। শেষ বলে ৫ রান লাগতো। কাউ কর্নারে বাওয়েসের ক্যাচ হন তিনি। শেষ ওভারে ১০ রানে ২ উইকেট নিয়ে জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন নিশাম। পাকিস্তান অলআউট ১৫৯ রানে।
নিশাম সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট পান রাচিন ও ও অ্যাডাম মিলনে। ম্যাচসেরা হয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক ল্যাথাম।
আগামী বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডিতে হবে চতুর্থ ম্যাচ। সিরিজে ২-১ এ এগিয়ে পাকিস্তান।








