দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে পাকিস্তানের। তৃতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছে। চতুর্থ ওয়ানডেতে নিউ জিল্যান্ডকে ১০২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এই প্রথম র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে বসেছে তারা। ২০০৫ সালে র্যাঙ্কিং সিস্টেম চালুর পর পাকিস্তান এবারই প্রথম ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে। করাচিতে বাবর আজমের ১৮তম সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৩৩৪ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। জবাবে কিউই দল ৪৩.৪ ওভারে ২৩২ রানেই গুটিয়ে গেছে। তাতে ৫ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ তে এগিয়ে গেছে স্বাগতিক দল।
দিনটা স্মরণীয় করে রাখতে বড় অবদান পাক অধিনায়ক বাবর আজমের। ওয়ানডেতে তার দ্রুততম ৫ হাজার রানের মাইলফকেই শুরুতে কিউইদের ওপর চেপে বসা। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ইনিংসে বেশিরভাগ সময় কর্তৃত্ব করেছেন বাবর ও আগা সালমান। শুরুতে ৩৬ রানে ফখরের আউটের পর ধাক্কা সামলেছেন শান মাসুদ (৪৪) ও বাবর আজম (১০৭)। শানের বিদায়ের পর রিজওয়ান ২৪ রানের বেশি করতে পারেননি। তার পর আগা সালমান-বাবরের ১১৭ রানের জুটিই বড় স্কোরের মঞ্চ গড়েছে। তার পর ম্যাট হেনরির পাল্টা আক্রমণে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায় ছিল নিউ জিল্যান্ড। ৪৬ বলে ৫৮ রান করা আগা সালমানকে বিদায় দেন তিনি। সালমানের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছয়। বেশিক্ষণ টিকতে দেননি ইফতিখার আহমদেকও (২৮)। লিস্টারকে ফিরতি ক্যাচ দিলে ২৯৬ রানে বাবরের বিদায়ে পড়ে ষষ্ঠ উইকেট। তার আগে ১১৭ বলে ১০ চারে ১০৭ রানের অসাধারণ ইনিংস উপহার দিয়েছেন পাক অধিনায়ক। কিন্তু শেষ দিকে মোহাম্মদ হারিস ও শাহীন আফ্রিদির বিস্ফোরক ব্যাটিং পাকিস্তানকে বড় স্কোর পাইয়ে দিয়েছে। ৮ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন হারিস। শাহীন ৭ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৩ রানে অপরাজিত থেকেছেন।
কিউই বোলারদের মধ্যে ৬৫ রানে তিনটি উইকেট নিয়েছেন ম্যাট হেনরি। একটি করে নিয়েছেন বেন লিস্টার ও ইস সোধি।
তার পর বিশাল রান তাড়া করতে গিয়ে যেমন বারুদ দরকার ছিল তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। তাই শুরুতেই আস্কিং রান রেটের চাপে ছিল সফরকারীরা। শুধু দুই ব্যাটার লড়াই করার মতো ব্যাটিং করেছেন। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৭৬ বলে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেছেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। ৩৩ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন চ্যাপম্যান। তাছাড়া উল্লেখযোগ্য ৩৪ রান করেছেন ড্যারিল মিচেল। ২৩ রান আসে টম ব্লান্ডেলের ব্যাট থেকেও। বাকিরা আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেওয়ায় ৪৩.৪ ওভারে ২৩২ রানেই শেষ হয় নিউ জিল্যান্ডের ইনিংস।
লেগস্পিনার উসামা মির ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ৪০ রানে তিনটি নেন পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিম। ৩৭ রানে দুটি শিকার হারিস রউফের।









