ঈদের আগে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিলেও ওয়ানডেতে জিততে বাংলাদেশকে লড়াই করতে হবে মনে করেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। টেস্ট সিরিজে আফগানিস্তানের দল কিছুটা দুর্বল হলেও রশিদ খানসহ আরও কয়েকজনকে ফিরিয়ে শক্তিশালী করা হয়েছে ওয়ানডে দলকে। তাই ওয়ানডে সিরিজ জিততে হলে বাংলাদেশকে ২২ গজে ব্যাপক লড়াই করতে হবে মনে করেন বাঁহাতি ব্যাটার।
গত বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও তিন ম্যাচ না হলেও অন্তত দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় স্বাগতিকরা। ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক তামিম বলে গেছেন, ‘আমার মনে হয় গত সিরিজ (ব্যবধান) যেভাবে ছিল, এই সিরিজেও এরকমই থাকবে। তারা ভালো দল, বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে। বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণ। গত সিরিজের থেকে কম কিছু আশা করছি না।’
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পর আফগানিস্তানের সাথে এশিয়া কাপে অন্তত একটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। দুই দল সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনাল খেললে আরও একবার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে অন্তত চারটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ বাংলাদেশের। বিশ্বকাপের আগে আফগানিস্তানের নাঁড়ি-নক্ষত্র সম্পর্কে জানতে এই ম্যাচগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তামিম, ‘আমাদের জিততে হলে লড়াই করতে হবে, অনেক ভালো খেলতে হবে। মাঠে গেলাম জিতে গেলাম এমন হবে না। বিশ্বকাপের আগে ওদের সাথে ৪টি ম্যাচ খেলবো, এটা বেশ ভালো। দুই দলের জন্যই এটা সমান সুবিধা, পরস্পরের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা জানার জন্য। আমাদের জন্য যেমন ওদের জানার সুযোগ, একইভাবে ওদেরও। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষের সঙ্গে আগে ৪টা ম্যাচ খেলবো, অবশ্যই এটা ভালো।’
বিশ্বকাপের আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভালো করতে পারলে আত্মবিশ্বাস অর্জন হবে মনে করেন ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘ওয়ানডে ক্রিকেট আমরা বেশ কিছু দিন ধরেই ভালো খেলছি। বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটা দলের বিপক্ষে আমরা খেলছি যাদের বোলিং বেশ ভালো। তাই ওদের বিপক্ষে ভালো করতে পারলে আত্মবিশ্বাস অর্জন হবে।’
আফগানদের বোলিং আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে তাদের স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের কঠিন লড়াই করতে হবে। তামিম এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আছেন, ‘আমাদের সাথে গত সিরিজে ওদের স্পিনারদের চেয়ে পেসাররা ভালো করেছে। যদি একটা জিনিস নিয়ে চিন্তা করি, ভুল হবে। তাদের মানসম্পন্ন ফাস্ট বোলারও আছে। ওরা সাদা বলের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং ইউনিট। তাই আমাদের নিজেদের সেরাটাই দিতে হবে।’
চট্টগ্রামের ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে দলগুলো সাধারণত টস জিতে আগে ব্যাটিং করে। বুধবার বাংলাদেশ দল টস জিতলে কী করবে, সেটি অবশ্য খোলাসা করেননি ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘টসের ব্যাপারে আমি আপনাকে বলতে পারবো না। এন্টিকরাপশনের মধ্যে পড়ে যাবে। উইকেট ভিন্ন। জানি না কতটা দেখতে পেরেছেন। কিছু ঘাস আছে। সাধারণত চট্টগ্রামের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। দুই দলের ওপেনারদের জন্যই প্রথম ১০ ওভার চ্যালেঞ্জিং হবে। আমার কাছে মনে হয় প্রথম ১০-১৫ ওভার একটু চ্যালেঞ্জিং থাকবে।’
আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতে হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ভারতের বেশিরভাগ ভেন্যুই ব্যাটিং নির্ভর হবে। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠের ম্যাচগুলোও হবে ব্যাটিং নির্ভর উইকেটে। এ ব্যাপারে তামিম জানিয়েছেন, ‘বিশ্বকাপের সূচি দেখুন, প্রত্যেক ভেন্যুতে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশন। এমন তো না ১০ ভেন্যুতে একই কন্ডিশন। একটা জিনিস মাথায় আছে- হাই স্কোরিং ম্যাচ হলে ভালো হয়। সাধারণত চট্টগ্রামে হাই স্কোরিং ম্যাচ হয়। বিশ্বকাপে হাই স্কোরিং ম্যাচ হবে। কিন্তু বড় টুর্নামেন্ট এলে... ২০১৯ বিশ্বকাপের কথা মনে আছে? বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের সিরিজে ৩৮০-৪০০ রান হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বকাপে এমন খুব কম হয়েছে। কারণ বিশ্বকাপে এক ধরনের চাপ কাজ করে। বিশ্বকাপে একেক ভেন্যুতে একেক কন্ডিশন। ভালো ব্যাটিং করলে রান বেশি হওয়ার সুযোগ থাকে। সেদিকেই আমরা মনোযোগ রাখছি।’








