জিম্বাবুয়েতে আফ্রো টি-টেন লিগ খেলার সময় তাসকিন আহমেদও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলার প্রস্তাব পান। কিন্তু সামনেই এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো আসর। এই আসর দুটোর আগে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পেসার তাসকিনের ওয়ার্কলোডেরে কথা ভেবে ক্রিকেট বোর্ড তাকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেয়নি। শুধু এবারই প্রথম নয়, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ও পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলার প্রস্তাব পেয়ে যেতে পারেননি তাসকিন।
সাম্প্রতিক সময়ে তাসকিনের কদর এতটাই বেড়েছে যে, জিম্বাবুয়েতে আফ্রো টি-টেন লিগ খেলার সময় বিদেশি ক্রিকেটাররা জানতে চেয়েছিলেন, তাদের লিগে তাসকিনের খেলার মতো সময় আছে কি না!
দারুণ পারফরম্যান্স করে রবিবার বিকালে দেশে ফিরেছেন তাসকিন। সংবাদমাধ্যমকে প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ওখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তো অনেক দেশের ক্রিকেটারের সঙ্গেই দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে। সবাই বলছিল, ভালো উন্নতি হচ্ছে, ভালো করছো। এছাড়া বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা আমাকে জিজ্ঞাসা করছিল যে তাদের লিগে খেলার মতো সময় আমার আছে কি না। আমি বলেছি এটা পরে জানাবো। যেহেতু আল্লাহর রহমতে তিন ফরম্যাটে খেলি, ফ্রি সময় পাওয়া কঠিন।’
জিম-আফ্রো টি-টেনে নিজের সেরাটা দিয়ে মুগ্ধ করেছেন তাসকিন। বুলাওয়ে ব্রেভসের হয়ে প্রথম আসরে বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশের ডানহাতি এই পেসার। জিম্বাবুয়েতে জিম-আফ্রো টি-টেন লিগে তাসকিনের গতি ও সুইংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বুকে কাঁপন ধরেছিল। টি-টেনের মতো টুর্নামেন্টে যেখানে ব্যাটারদের আধিপত্য, সেখানে বল হাতে রাজত্ব করেছেন তিনি। ৭ ম্যাচ খেলে ১১ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা উইকেটশিকারি। তাসকিন প্লেঅফ খেলতে পারলে উইকেট সংখ্যা নিশ্চিতভাবে আরও বাড়তো।
জিম-আফ্রো টি-টেনে দারুণ উপভোগ করেছেন তাসকিন, ‘ব্যক্তিগতভাবে একটা ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেললাম, অভিজ্ঞতাটা ভালোই ছিল। যদিও দল হিসেবে আমরা ফাইনাল খেলতে পারিনি। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি মোটামুটি ভালোই খেলেছি।’
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তাসকিন বলেছেন, ‘সন্তুষ্ট আমি। রিদমটা ভালো হচ্ছে। আর উন্নতি হচ্ছে, এটাই। এক্সিকিউট করতে পারছি। ব্যক্তিগতভাবে হয়তো মোটামুটি ভালো টুর্নামেন্টে গেছে। কিন্তু এখনও উন্নতির মধ্যেই আছি।’
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ পেয়েও খেলতে পারছেন না তাসকিন। তারপরও আক্ষেপ নেই তার, ‘সুযোগ তো শুধু লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ না, বিশ্বের সব লিগ থেকে আসছে এখন পর্যন্ত। ফাঁকা সময়টা ইস্যু। আল্লাহ যদি সুস্থ রাখেন, দোয়া করেন সামনে সুযোগ আসবে।’
বারবার অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় নিজেকে দুর্ভাগা মনে করছেন না তাসকিন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ সুস্থ রেখেছেন, এটাই সবচেয়ে বড় নিয়ামত। সুস্থ থাকলে অনেক লিগ খেলতে পারবো। তাছাড়া বোর্ড থেকে যেহেতু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমার এই মুহূর্তে ওয়ার্কলোড বেশি হয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে ঠিক আছে।’









