বিপিএল প্রায় শেষের পথে। শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার হার্ড হিটার ডেভিড মিলারকে যুক্ত করেছে ফরচুন বরিশাল। কাল সোমবার এলিমিনেটর ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে মাঠে নামবেন তিনি। ধুম ধারাক্কা ক্রিকেট খেলে যার দর্শকদের আনন্দ দেওয়াই কাজ। সোমবার বিপিএলে দ্বিতীয়বারের মতো খেলতে নামছেন।
পরিসংখ্যানই বলে নিজের দিনে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন কিলার মিলার খ্যাত এই ক্রিকেটার। দেখা গেছে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন আরও পরিণত তিনি। মিলারের অভিষেক হয় ২০১০ সালে। অভিষেকের পর থেকেই নিজের সহজাত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে আসছেন। এখন যোগ হয়েছে সেন্সিবল ব্যাটিং। অথচ মিলারের বয়স এখন ৩৪। ৩০- এর আগে মিলার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ৬৭টি। যেখানে ১৪১.৪০ স্ট্রাইকরেটে ৩০.৪৮ গড়ে ১ হাজার ২৫০ রান সংগ্রহ করেছেন। দেখা গেছে গত চার বছরে তার গড় ও স্ট্রাইকরেট আরও বেড়েছে। ৪৬ ম্যাচ খেলে মিলার ১৫০ এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ৯৭৭ রান করেছেন ৪৬ ম্যাচে। গড় ৪০.৭০। বোঝাই যাচ্ছে বয়স বাড়ার সঙ্গে কতটা শাণিত হয়েছে তার পারফরম্যান্স।
নিজের অভিজ্ঞতা, পারফরম্যান্স বয়স এবং খেলার সামর্থ্য সবকিছুকে মিলার তুলনা করলেন রেড ওয়াইনের সঙ্গে। বলা হয়, ‘রেড ওয়াইন যত পুরোনো, স্বাদ তত ভালো। আমি ঠিক নিশ্চিত নই এখানে কেউ ড্রিংকস করেন কিনা। কিন্তু কথায় আছে, রেড ওয়াইন বয়সের সঙ্গে পরিপক্ক হয়। এজন্য আমি মনে করি, আপনার বয়স যত বাড়ছে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তত বাড়ছে।’
সবমিলিয়ে কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে ৪৬৬ ম্যাচে ১৩৮.২১ স্ট্রাইকরেটে মিলারের মোট রান ১০ হাজার ১৯। ৪টি সেঞ্চুরি ছাড়াও আছে ৪৫টি হাফ সেঞ্চুরি। আইপিএলের গত দুই আসরেও দারুণ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করেছেন। গত আসরে গুজরাটের হয়ে ১৪৫.৫১ স্ট্রাইকরেটে ১৬ ম্যাচে তার রান ছিল ২৫৯। আগের আসরে ১৪২.৭৩ স্ট্রাইকরেটে প্রোটিয়া এই ব্যাটার রান করেছেন ৪৮১। মিলার তার ক্যারিয়ার নিয়ে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনি শিখতে পারবেন, বুঝতে পারবেন খেলাটাকে আরও ভালোভাবে। টি-টোয়েন্টিতে সবকিছু অনেক দ্রুত হয়। এখানে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির সামনে নিজেকে পাবেন। কিন্তু আমাকে এমন কিছু করতে হবে যা কাজে লাগবে। খেলার শুরুতে শুধু কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। কোন রান রেটে ব্যাট করতে হবে, আমাকে এটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। অনেক সময় আপনাকে ৩ ওভার আগে নামতে হবে। প্রতিটি পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই চেষ্টা করতে হবে সেভাবেই খেলার।’
আইপিএলের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে মিলার বলেছেন, ‘আমি ১০ বছর সেখানে কাটিয়েছি (আইপিএলে)। এটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম ভালো সময় ছিল (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবে কাটানো সময়)। গুজরাট টাইটান্সও ভালো। আমরা একটি শিরোপা জিতেছি। দ্বিতীয় মৌসুমে আমরা রানার্সআপ হয়েছি। আমি ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশন উপভোগ করি ভিন্ন ভিন্ন কোচদের সঙ্গে। তারা ভিন্নভাবে নিজেদের কাজটা করেন। তাই একটির সঙ্গে অন্যটির তুলনার কোনও সুযোগ নেই।’
লম্বা ফ্লাইটে জোহানেসবার্গ থেকে ঢাকায় আজ সকালেই পৌঁছেছেন মিলার। হোটেলে কয়েক ঘণ্টার বিশ্রাম শেষে দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। তবে টানা খেলার ওপর থাকায় নেটে বেশি জোর দেননি। রানিং করেছেন, বল থ্রো করে শরীর ঝালিয়ে নিয়েছেন। কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায় এসএ টি-টোয়েন্টি। সেখানে পার্ল রয়্যালসে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। খেলেছেন ১০ ম্যাচে ২৪০ রানের ইনিংস।
তিনি মনে করেন খেলার মধ্যে থাকলে প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই, ‘প্রথমবারের মতো নতুন একটি দলে যোগ দেওয়া। এখানের মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। মানসিকভাবে মানিয়ে নেওয়াও। এছাড়া আপনি তো জানেন শরীরের চাহিদা কী, আপনার শরীর কি চাইছে। এজন্য বাড়তি কিছুর করার প্রয়োজন অনুভব করিনি আজ।’
মিলার এর আগে বিপিএল খেলেছিলেন একবার। সেটাও ২০১৩ সালে চিটাগং কিংসের জার্সিতে। ৩ ম্যাচে রান করেছিলেন কেবল ৪১। সোমবার চট্টগ্রামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে বরিশাল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে দলে অবদান রাখতে মুখিয়ে প্রোটিয়া এই ব্যাটার, ‘কালকে আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে চলেছি। এটা বড় ম্যাচ। ছেলেরা খুব ভালো খেলছে। একটু দেরিতে এসেছি, আমি যতটুকু সম্ভব অবদান রাখতে চাই। যাতে করে তরুণ ছেলেরা আমার কাছ থেকে কিছু শিখতে পারে এবং আমিও তাদের কাছ থেকে শিখতে পারি। আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন আমরা ভালো ক্রিকটে খেলতে পারি।’








