ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে খুব বেশি পরিবর্তন করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচক প্যানেল। পাকিস্তান সিরিজের দলের স্কোয়াড থেকে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। পেসার শরিফুল ইসলামকে বিশ্রাম দিয়ে নেওয়া হয়েছে উইকেট কিপার ব্যাটার জাকের আলী অনিককে।ঘরোয়া ক্রিকেটে লম্বা ইনিংস খেলার রেকর্ড থাকলেও কুড়ি ওভারের ক্রিকেটেই অভিষেক হয় জাকেরের। তবে পাকিস্তানে ‘এ’ দলের সফরে চারদিনের ম্যাচে জাকেরের খেলা ১৭২ রানের ইনিংস নির্বাচকদের মন ছুয়েছে। এই কারণেই মূলত ভারত সিরিজের দলে সুযোগ হয়েছে তার। অন্যদিকে, শরিফুল ইনজুরি থেকে ফিরলেও খেলার মতো অবস্থায় না থাকায় তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
ভারত সিরিজের টেস্ট স্কোয়াডে জাকের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি এখনও অভিষেকের অপেক্ষায়। ২০১৬ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের পর জাকেরের গড় ৪১.৪৭। ৪৯ ম্যাচে রান ২ হাজার ৮৬২। জাকেরের টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়া নিয়ে নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হান্নান সরকার বলেছেন, ‘আমাদের সবগুলো পরিকল্পনায় (শাহাদাত হোসেন) দীপু ছিল। একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন, দীপু যে ম্যাচগুলো খেলেছে তখন সাকিব বা মুশফিকের কেউ একজন সবসময় ছিল না। কেউ একজন অনুপস্থিত ছিল, তখন ম্যাচগুলোতে দীপু সুযোগ পেয়েছে এবং খারাপ-ভালো মিলিয়েই খেলেছে। আমি বলবো না খুব ভালো খেলেছে বা খুব খারাপ খেলেছে। দীপু আমাদের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার। এনসিএল শুরু হচ্ছে, সে এর জন্য তৈরি হচ্ছে। দীপু খুব কাছ থেকেই আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে।’
মূলত দীপু ছন্দে না থাকাতেই জাকেরকে নিয়ে ভাবতে হয়েছে নির্বাচকদের, ‘জাকেরের রেকর্ড যদি দেখেন এনসিএল, বিসিএল, লঙ্গার ভার্শনে রেকর্ড খুব ভালো। একটা আইডিয়া হয়তো পেয়ে যাবেন যে, সে লঙ্গার ভার্সনের জন্য খুব কার্যকর ক্রিকেটার হতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত চোটের কারণে হয়তো আরও আগে অভিষেক বা সুযোগ থাকলেও হয়তো হয়নি। এর বাইরেও কিছুদিন আগেই পাকিস্তানে ১৭২ রানের ইনিংস খেলেছে, লম্বা সময় ধরে খেলেছে, খুব ভালো খেলেছে। সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে জাকেরকে আমরা এক ধাপ এগিয়ে রেখেছি।
জাকের সুযোগ পাওয়াতে এতো আলোচনা নেই। যতটা আলোচনা একজন পেসারের বদলে উইকেট কিপার ব্যাটার নেওয়াতে। কেন শরিফুলের বদলে জাকের? এর ব্যাখ্যায় হান্নান বলেছেন, ‘কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষ বিবেচনায় পাকিস্তানে আমরা ৫ জন পেসার নিয়ে গিয়েছিলাম। সেই জায়গা থেকে এবার একজন কমিয়ে ৪ জন করা হয়েছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে মিডল অর্ডারে ব্যাটিং শক্তি বাড়ানো প্রয়োজন। আর সেই চিন্তা থেকেই জাকেরকে নেওয়া।’
এদিকে, শরিফুলের ইনজুরি নিয়ে হান্নান বলেছেন, ‘শরিফুলকে আসলে শতভাগ ফিট বলা যাবে। (পাকিস্তানে) দ্বিতীয় টেস্টেই ও আনফিট ছিল। যে কারণে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ছিল না। তারপর সেই প্রক্রিয়ায় ওকে ফলো-আপে রাখা হয়েছে। ফিজিও-ট্রেনাররা তার দেখভাল করছেন। তাকে টেস্টের জন্য শতভাগ ফিট বলবো না। সামনে আমাদের টি-টোয়েন্টি খেলাও আছে। ওই সংস্করণেও শরিফুল আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার।’









