পাল্লেকেলেতে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা দুই দলেরই ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। মার্ক চাপম্যান ও মিচেল হে সেই দুর্যোগ সামলে নেওয়ায় টেনেটুনে দুইশ পার করে ব্ল্যাক ক্যাপরা। ২১০ রানের লক্ষ্য দিয়েও তারা লঙ্কানদের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। স্বাগতিকদের হয়ে কেবল একজনই লড়লেন- কুশল মেন্ডিস। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে অন্য প্রান্তের সঙ্গীদের কেবল আসা যাওয়া দেখেছেন তিনি। কিন্তু ঘাবড়ে যাননি। ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ বের করে নেন। তার বীরোচিত ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ওয়ানডে জেতে ৩ উইকেটে।
এই জয়ে ২-০ তে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ একটি হাতে রেখে জিতে নিলো শ্রীলঙ্কা। একদিনের ক্রিকেটে ২০১২ সালের পর প্রথমবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় করলো তারা।
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে দুই দলেরই ইনিংস কমে দাঁড়ায় ৪৭ ওভারের। তাও পুরো ইনিংস শেষ করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ৪৫.১ ওভারে ২০৯ রানে অলআউট তারা। অথচ একশ রানের আগেই চার উইকেট হারালেও তারা হে ও চাপম্যানের জুটিতে বড় স্কোরের আভাস দিয়েছিল। ৩৬ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে তারা বিপাকে পড়ে।
৯৮ রানে চার উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে নিয়ে তাদেরকে ম্যাচে ফেরান চাপম্যান ও হে। দুজনের ৭৫ রানের জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু আনেন আসিথা ফার্নান্ডো। ৮১ বলে ৭ চার ও ৩ ছয়ে সাজানো চাপম্যানের ৭৬ রানের ইনিংস শেষ হতেই ভেঙে পড়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন। হে কোনোরকমে দলকে দুইশ পার করেন। ৬২ বলে চার চারে ৪৯ রান করে তিনি শ্রীলঙ্কার শেষ শিকার হন।
এই সময়ে আসিথা ও জেফ্রি ভ্যান্ডারসে একই ওভারে দুটি করে উইকেট নেন। মাহিশ ঠিকশানা পরপর দুই ওভারে উইকেট নিয়ে কিউইদের গুটিয়ে দেন। ৯.১ ওভারে ৩১ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে সেরা বোলিং করেন তিনি। ভ্যান্ডারসে সমান উইকেট নেন ৪৬ রান খরচায়।
লক্ষ্যটা সহজ ছিল, কিন্তু পথটা ছিল কঠিন। দলীয় ২৩ রানে আভিষ্কা ফার্নান্ডো আউট হলে ক্রিজে নামেন কুশল। দলীয় স্কোর একশর আগেই অন্য প্রান্তের চার ব্যাটারকে ফিরে যেতে দেখেছেন তিনি। মাইকেল ব্রেসওয়েলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সফরকারীরা শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট তুলে নেয় ৯৩ রানে।
সেই ধাক্কা কিছুটা কাটিয়ে ওঠে শ্রীলঙ্কা, কুশলের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়েন জানিথ লিয়ানাগে (২২)। তিনি আউট হওয়ার পর সেট ব্যাটারের সঙ্গে দুনিথ ভেল্লালাগে কিছুটা প্রতিরোধে স্বস্তি ফেরান। এই জুটি ৩১ রানের বেশি হয়নি। ১৬৩ রানে সপ্তম ব্যাটার হিসেবে ফিরে যান ভেল্লালাগে (১৮)। বাকি পথ কুশল পাড়ি দিয়েছেন ঠিকশানাকে নিয়ে। দুজনের ৫৯ বলে ৪৭ রানের ইনিংস সেরা জুটিতে এক ওভার বাকি থাকতে ২১০ রান করে শ্রীলঙ্কা। ১০২ বলে ৬ চারে ৭৪ রানে অপরাজিত ছিলেন কুশল, ২৭ রানে খেলছিলেন ঠিকশানা। ৪৬ ওভারে ৭ উইকেটে ২১০ রান করে শ্রীলঙ্কা।








