বিপিএলের চলতি আসরে আধিপত্য দেখাচ্ছে রংপুর রাইডার্স। ঢাকায় তিন ম্যাচ খেলে সবকটি জিতে সিলেট পর্বেও দারুণ সূচনা করেছে তারা। সোমবার স্বাগতিক সিলেট স্ট্রাইকার্সকে দাপট দেখিয়ে হারিয়েছে। আগে ব্যাটিং করে জাকের আলী অনিক ও অ্যারন জোনস ঝড়ে ২০৫ রান করে সিলেট। জবাবে অ্যালেক্স হেলসের বিস্ফোরক সেঞ্চুরি ও সাইফ হাসানের হাফসেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। এই জয়ে চার ম্যাচের চারটিতে জিতে তারা নিজেদের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছে।
সিলেটে অনুষ্ঠিত সিলেট ও রংপুরের মধ্যকার প্রথম ম্যাচে সবমিলিয়ে ৩১টি ছক্কার দেখা মিলেছে। যা বিপিএলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এর আগে ২৯ ছক্কার দেখা মিলেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স-কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (২০২৪) ও ফরচুন বরিশাল-দুর্বার রাজশাহীর (২০২৪) ম্যাচে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়েছিল সিলেট। রনি তালুকদার ও জাকির হাসানের হাফসেঞ্চুরির পর জাকের ও জোনসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২০৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিক দল। কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই ওপেনার আজিজুল হাকিম তামিমকে হারায় রংপুর। রান করতে যেন ভুলে গেছেন হাকিম। ২০২৪ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপজয়ী অধিনায়ক প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে টানা তিন ম্যাচে ডাক মেরেছেন। ডাকের হ্যাটট্রিক করে বাংলাদেশের এই তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার ফিরেছেন তানজিম হাসান সাকিবের বলে।
এরপর সিলেট বোলারদের ওপর দাপট দেখাতে থাকেন হেলস ও সাইফ। দু’জনের ১৮৬ রানের জুটিতেই মূলত জয় নিশ্চিত করেছে রংপুর। সেঞ্চুরি থেকে ২০ রান দূরে থাকতে আউট হন সাইফ। তানজিম হাসান সাকিবের বলে আউট হওয়ার আগে ৪৯ বলে ৩ চার ও ৭ ছক্কায় সাইফ খেলেন ৮০ রানের ইনিংস। হেলসের সঙ্গে সাইফের জুটিটি বিপিএলে দ্বিতীয় উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সাইফের আউটের পর বাকি পথটা অনায়াসে পাড়ি দেন হেলস ও ইফতেখার আহমেদ। ৫৬ বলে ১০ চার ও ৭ ছক্কায় হেলস ১১৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন। বিপিএলের চলতি আসরে এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি। প্রথম সেঞ্চুরি করেন উসমান খান, দ্বিতীয়টি থিসারা পেরেরা।
সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে বল হাতে একাই লড়েছেন তানজিম সাকিব। ২৩ রানে নেন দুটি উইকেট। বাকি বোলারদের মধ্যে সবাই ছিলেন বেশ খরুচে।
শুরুতে অবশ্য টস হেরে বাটিংয়ে নেমে প্রথম ম্যাচেই ব্যাটে ঝড় তুলেছিল সিলেট। শুরুতে রনি তালুকদার ও জর্জ মুন্সি ভালো শুরু এনে দেন। জর্জ ১৮ রানে ফিরে গেলেও রনি আউট হন ৩২ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে। তার ব্যাট থেকে আসে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। এরপর জাকির হাসান ৩৮ বলে ৫০ রান করেছেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৪ ছক্কা। ১৬ ওভার শেষে সিলেটের রান ছিল ১৪২। এরপর শুরু হয় অ্যারন জোনস ঝড়। তিনি ৪ ছক্কা ও১ চারে ১৯ বলে করেছেন ৩৮ রান। শেষ দিকে জাকের আলী ৫ বলে ৩ ছক্কায় ২০ রান করেছেন। তাতে রংপুরকে ২০৬ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় সিলেট।
রাইডার্সের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ ২ উইকেট শিকার করেছেন। একটি করে উইকেট নেন শেখ মেহেদি ও আকিফ জাভেদ।









