সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬.৩ ওভারে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয় ঢাকা ক্যাপিটালস। শুরু থেকেই বল হাতে আগুন ঝরান নাহিদ রানা। রংপুরের এই পেসার ২১ রানে তুলে নেন ৩ উইকেট। ঢাকার ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিতে বড় অবদান তার। ম্যাচসেরা হওয়া নাহিদ জাতীয় দলেও দারুণ খেলছেন। সবকিছু মিলিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় তিনি। যদিও মানুষের আলোচনা এবং প্রশংসা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেন দ্রুতগতির এই বোলার। ২২ গজের লড়াইয়ে নেমে ইনজুরির ঝুঁকির কথা চিন্তা না করে সেরাটা দেওয়ার তাড়নায় মুখিয়ে থাকেন তিনি।
বাংলাদেশের কোনও পেসার বলেকয়ে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করছেন, এমন দৃশ্য দেখার কথা কিছুদিন আগেও অচিন্তনীয় ছিল। নাহিদ সেটা এখন নিয়মিতই মাঠে দেখাচ্ছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তো বটেই, এই মুহূর্তে সারা বিশ্বেরই অন্যতম গতিশীল ফাস্ট বোলার এই ২২ বছর বয়সী। সাবেক অনেক ক্রিকেটারই নাহিদকে যত্ন করতে বিসিবিকে অনুরোধ করেছেন। সবখানে যখন তাকে নিয়ে আলোচনা, তখন কী ভাবছেন তরুণ এই পেসার।
মঙ্গলবার রংপুরের জয়ের নায়ক সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেছেন, ‘আসলে এই জিনিসগুলো থেকে আমি যত পারি দূরে থাকার চেষ্টা করি। তবে মানুষ মানুষের প্রশংসা করলে শুনতে ভালো লাগে- আমি চেষ্টা করি, যত পারি এগুলো থেকে দূরে থাকার। কারণ নিজের ভেতরে যত সন্তুষ্টি কম আসবে, তত আমি সামনে এবং আমার ভেতরে পারফর্ম করার ক্ষুধা থাকবে। তাই চেষ্টা করি এসব থেকে দূরে থাকার।’
জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার নিজের পা মাটিতেই রাখতে চান, ‘নিজেকে আমি কোনও তারকা মনে করছি না। আমি আপনাদের মতো সাধারণ মানুষ। তাই আমি সাধারণ থাকার চেষ্টা করছি।’
গতিময় পেসারদের ইনজুরির ঝুঁকি থাকেই। বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্যারিয়ার খুব বেশি লম্বা হয়নি ইনজুরির কারণে। তাসকিনও ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করেছেন। তরুণ নাহিদ এইসব নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না। তার মতে যুদ্ধে নামলে গুলি খেতে হতেই পারে, ‘প্রথমে যেটা বললেন যে, ইনজুরি। ধরেন, মানুষ যুদ্ধে নামলে গুলি খেতে হয়। ক্রিকেট খেলতে আসলে ইনজুরিতে পড়বো। আর যেটা মেইনটেইনের কথা বলছিলেন, ফিটনেস, এগুলো সব নিজে মেইনটেইন করছি। আর বিসিবি যেসব শিডিউল দিয়েছে, ওগুলো মেনে কাজ করার চেষ্টা করছি। সামনে যা হবে আলহামদুলিল্লাহ।’
বিপিএলে ছুটছে রংপুরের জয়রথ। ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নুরুল হাসান সোহানের দল। এমন সাফল্যের রহস্য জানাতে গিয়ে নাহিদ বলেছেন, ‘অবশ্যই উপভোগ করছি। সবাই দলের মধ্যে উপভোগ করি। মাঠে বলেন, মাঠের বাইরে বলেন; আমাদের বন্ডিংটা অনেক ভালো। ওই জিনিসটা মাঠে কাজে দিচ্ছে। আমাদের কোচ ধরেন যে প্লেয়ারকে যে প্ল্যান দেন, সেটা মাঠের মধ্যে এক্সিকিউট করার চেষ্টা করি। আমাদের টিম বন্ডিংটা অনেক ভালো। এটার জন্য হচ্ছে মাঠে পারফর্মটা ভালো হচ্ছে।’
মিরপুরের উইকেটের সঙ্গে সিলেটের উইকেটের তুলনা করতে গিয়ে নাহিদ বলেছেন, ‘উইকেটে পার্থক্য বেশি কিছু না। ঢাকায় একটু বাউন্স ছিল। এখানে একটু স্কিডি, ব্যাটে সুন্দর বল যায়।’









