লম্বা সময় ধরে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নির্বাচন হয় না। সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় দায়িত্ব পালন করেছেন ১৫ বছর ধরে। বেশ কয়েকবার নির্বাচনের উদ্যোগ নিলেও অজানা কারণে নির্বাচন হয়নি। অবশেষে বরফ গলেছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ক্রিকেটারদের প্রাণের সংগঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোয়াবের আহবায়ক সেলিম শাহেদ।
কোয়াবের কাঠামোতেও আসতে যাচ্ছে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন নির্বাচনে থাকছে না সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারি) পদ। নতুন করে গঠিত হতে যাওয়া কমিটিতে থাকবে একজন সভাপতি, একজন সিনিয়র সহ-সভাপতি, একজন সহ-সভাপতি এবং আটজন কার্যনির্বাহী সদস্য।
নির্বাচন ৪ সেপ্টেম্বর আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কোয়াবের নির্বাচন নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। এর আগে সংগঠনের কার্যক্রম অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। তবে চলতি বছরের মার্চে কোয়াবের আগের কমিটি বিলুপ্ত করে ১৩ সদস্যের একটি অ্যাড-হক কমিটি গঠিত হয়। যার মূল দায়িত্ব ছিল গঠনতন্ত্র সংশোধন এবং নির্বাচন আয়োজন।
সোমবার মিরপুরে কোয়াবের সদস্যদের মিটিংও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিটিং শেষে কমিটির আহবায়ক সেলিম শায়েদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের আজকে একটা মিটিং ছিল, যেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম আমাদের ইলেকশন কবে হবে এবং ইলেকশনের প্রসেসটা কী হবে। তো আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখে ইনশাআল্লাহ ইলেকশনের ডেট ফাইনাল করেছি এবং ৪ তারিখের মধ্যে আমাদের বাকি যে সমস্ত ইলেকশন রিলেটেড কাজ সেগুলো কমপ্লিট করার চেষ্টা করবো। অর্থাৎ মেম্বারশিপ, প্লাস নমিনেশন ফর্ম কেনা, নমিনেশন ফর্ম জমা দেওয়া, এই সমস্ত জিনিসপত্র আমরা কমপ্লিট করার চেষ্টা করবো এবং ৪ তারিখে, অর্থাৎ ৪ সেপ্টেম্বর আমরা ইলেকশনের জন্য প্রসিড করবো।’
অ্যাড-হক কমিটি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনও গঠন করেছে। ইলেকশন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রাখা হয়েছে ইফতেখার রহমান মিঠুকে। তার সঙ্গে দুই সদস্য হিসেবে আছেন নাসির আহমেদ নাসু ও হাবিবুল বাশার সুমন।
এতদিন কোয়াবের কোনও স্থায়ী ঠিকানা ছিল না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আবেদনের প্রেক্ষিতে কোয়াব মিরপুর স্টেডিয়ামে স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেলিম শাহেদ বলেছেন, ‘এই প্রথম আমরা আমাদের স্থায়ী কোনও ঠিকানা পেয়েছি। আমরা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাই, এনএসসিকে ধন্যবাদ জানাই এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকেও ধন্যবাদ জানাই। তাদের সকলের সহযোগিতা আমরা একটা স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছি।’
কোয়াবের সদস্য হওয়ার জন্য নতুন করে ক্যাটাগরি নির্ধারণ করেছে অ্যাড-হক কমিটি। প্রথমে রাখা হয়েছে আজীবন সদস্যপদ ক্যাটাগরি। যেখানে জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়রা ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই পদ নিতে পারবেন। আর জাতীয় দলের বাইরের খেলোয়াড়দের গুণতে হবে ১ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরিতে যারা থাকবেন তাদের বাৎসরিক ফি দেওয়া লাগবে না এবং পূর্ণ ভোটের অধিকার দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত স্থায়ী সদস্যপদ। ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় দল, প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ অথবা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলেছেন এমন ক্রিকেটাররা ৫ হাজার টাকা দিয়ে এই পদ নিতে পারবেন। এই ক্যাটাগরির সদস্যদের বাৎসরিক ফি দেওয়া লাগবে। এর বাইরে রয়েছে সহযোগী সদস্যপদ। এই ক্যাটাগরির জন্য ২ হাজার টাকা ফি ও বাৎসরিক ফি ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সদস্যরা ভোটের অধিকার পাবেন না।








