দ্বিতীয় টেস্টে সংক্ষিপ্ত স্কোর: আয়ারল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৩৮ ওভারে ৯৮/৫ (টাকার ১১*, ডোহেনি ২*; স্টার্লিং ২৭, বালবার্নি ২১, কারমাইকেল ১৭, ক্যাম্ফার ০, টেক্টর ১৪)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৪১.১ ওভারে ৪৭৬/১০ (এবাদত ১৮*; সাদমান ৩৫, জয় ৩৪, শান্ত ৮, মুমিনুল ৬৩, মুশফিক ১০৬, মিরাজ ৪৭, লিটন ১২৮, তাইজুল ৪, মুরাদ ১১, খালেদ ৮)
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও কর্তৃত্ব করছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন প্রথম ইনিংসে ৪৭৬ রানে অলআউট হওয়ার পর বল হাতেও আইরিশদের ওপর কর্তৃত্ব করেছেন তারা। প্রথম ইনিংসে ৯৪ রানে ৫ উইকেট তুলে সফরকারীদের বিপর্যস্ত করে ছেড়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন শেষে আয়ারল্যান্ডের সংংগ্রহ ৫ উইকেটে ৯৮ রান। তারা এখনও পিছিয়ে ৩৭৮ রানে। ব্যাট করছেন লরকান টাকার ১১* ও স্টিফেন ডোহেনি ২*।
৬৩ রানে বালবার্নির আউটের পর তৃতীয় উইকেট পেতেও সময় লাগনি বাংলাদেশের। আইরিশদের ৭৯ রানে কেড কারমাইকেলকে (১৭) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার পর দ্রুত সময়ে নতুন ব্যাটার কার্টিস ক্যাম্ফারকে শূন্যরানে বোল্ড করেন হাসান মুরাদ। এটি ছিল তার দ্বিতীয় শিকার। শেষভাগে এসে তাইজুলের শিকার হন হ্যারি টেক্টর। তিনি ১৪ রানে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন।
১০ রানে দুটি উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন বামহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ। একটি করে নেন খালেদ আহমেদ, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
বালবার্নিকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেট এনে দিলেন মুরাদ
৪১ রানের শুরুর জুটি ভাঙার পর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিলেন অ্যান্ডি বালবার্নি ও কেড কারমাইকেল। বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তাদের প্রতিরোধ। অ্যান্ডি বালবার্নিকে দারুণ এক ঘূর্ণিতে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়েছেন হাসান মুরাদ।
বালবার্নি আউট হয়েছেন ২১ রানে। আয়ারল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় উইকেট হারায় ৬৩ রানে।
আয়ারল্যান্ডের শুরুর জুটি ভেঙেছেন খালেদ
বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে ৪৭৬ রানে থামিয়ে শুরুটা খারাপ ছিল না আয়ারল্যান্ডের। ওপেনিং জুটিতেই ৪১ রান যোগ করেন পল স্টার্লিং ও অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবার্নি। ১১তম ওভারে আক্রমণাত্মক স্টার্লিংকে এলবিডাব্লিউতে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন পেসার খালেদ আহমেদ।
স্টার্লিং ২৬ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৭ রানে ফিরেছেন।
৪৭৬ রানে থামলো বাংলাদেশের ইনিংস
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪৭৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। যার পেছনে ছিল তিনটি শত রানের জুটি। যার একটিতে ছিলেন মুশফিকুর রহিম-মুমিনুল হক (১০৭), আরেকটিতে মুশফিকুর রহিম-লিটন দাস (১০৮)। শেষ ও বড় জুটিটি ছিল লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের (১২৩)।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে পুরোপুরি দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিক দল। শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা মুশফিক আউট হলেও প্রতিরোধ গড়ে খেলেন লিটন-মিরাজ। দ্বিতীয় সেশনে তাদের বিদায়ে ভাঙে ১২৩ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। মিরাজ ৪৭ রানে আউট হওয়ার পরের ওভারে লিটন দাস কাটা পড়েন ১২৮ রানে। তার পর প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে বাংলাদেশের। একে একে ফেরেন তাইজুল (৪), হাসান মুরাদ (১১) ও খালেদ আহমেদ (৮)। শুধু লেজের দিকে মারমুখী ব্যাটিং করেন এবাদত হোসেন। ২৪ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। খালেদের আউটের পর পরই অবশ্য আগেভাগে চায়ের বিরতি নেওয়া হয়েছে।
আইরিশদের হয়ে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় পঞ্চম উইকেট শিকারের নজির গড়েন অফস্পিনার অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। ১০৯ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। দুটি করে নেন ম্যাথু হামফ্রিজ ও গেভিন হোয়ে।
ভাঙলো মিরাজ-লিটনের প্রতিরোধ
প্রথম সেশনে জুটি গড়ে খেলছিলেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় সেশনে ফিরে অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তাদের প্রতিরোধ। তাদের ব্যাটে দলের স্কোর চারশ ছাড়ালেও মিরাজ ১২৯.৪ ওভারে হোয়ের বলে ক্যাচ তুলে ফেরেন ৪৭ রানে। তাতে ভেঙেছে ১২৩ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। পরের ওভারে আউট হয়ে যান সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাসও। হামফ্রিজের বলে সুইপ করতে গিয়ে ১২৮ রানে ক্যাচআউট হন তিনি। লিটনের বিদায়ে ৪৩৩ রানে পড়ে সপ্তম উইকেট।
লিটনের সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনও বাংলাদেশের
মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে টানা দ্বিতীয় দিন চলছে বাংলাদেশের আধিপত্য। প্রথম সেশনে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানো মুশফিকুর রহিমের (১০৬) উইকেট পড়লেও তার পর প্রতিরোধ গড়ে খেলেছেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৭৭ রানের জুটিতে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ৩৮৭ রানে লাঞ্চ বিরতিতে গেছে স্বাগতিক দল। লিটন দাস পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে ১০৩ রানে অপরাজিত আছেন। মিরাজ ব্যাট করছেন ৩০ রানে।
ইতিহাস গড়ার পরেই আউট মুশফিক
দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় বলেই শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এমন কীর্তি গড়ার পর অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার ইনিংস। ৯৮.১ ওভারেই বামহাতি স্পিনার হামফ্রিজের ঘূর্ণিতে ১০৬ রানে কাটা পড়েন মুশফিক। এটি ছিল তার ১৩তম সেঞ্চুরি। তার ২১৪ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার। তাতে ভেঙেছে লিটন-মুশফিকের ১০৮ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।
শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে মুশফিকের ইতিহাস
নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। গতকাল দিন শেষ হওয়ায় অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় বলেই ইতিহাসে নাম লেখান তিনি। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে নেমে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। এই বিরল কীর্তিতে টেস্ট ইতিহাসের এগারো নম্বর ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মুশফিক। এই সেঞ্চুরিতে আবার বাংলাদেশের হয়ে মুমিনুলের সর্বোচ্চ (১৩) সেঞ্চুরির রেকর্ডে ভাগও বসিয়েছেন। তার পরের বলে ২০তম ফিফটি তুলে নেন লিটন দাসও। দুই ব্যাটারের জুটি শতরানও ছাড়িয়েছে।
প্রথম দিন মিরপুরে টস জিতে ফিফটি প্লাস রানের ওপেনিং জুটির পর প্রথম সেশনে ৩টি উইকেট হারিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছিল বাংলাদেশ। তার পর অবশ্য তারা ঘুরে দাঁড়ায় দারুণ প্রতিরোধে। দ্বিতীয় সেশনে মুমিনুল হক-মুশফিকুর রহিম মিলে গড়েন প্রতিরোধ। তৃতীয় সেশনে চায়ের বিরতি থেকে মুশফিক ২৮তম টেস্ট ফিফটি তুলে নিলেও ৬৩ রানে কাটা পড়েন মুমিনুল। তাতে ভাঙে ১০৭ রানের জুটি। এর পর অসাধারণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান মুশফিকুর রহিম। লিটনকে নিয়ে গতকাল যোগ করেন ৯০* রান। তারা আজ ৪ উইকেটে ২৯২ রান নিয়ে দিন শুরু করেন।









