তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হয়েছে। তা শেষ করে বিসিবির পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান নাজমুল ইসলাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে কেমন আর্থিক ক্ষতি হতে পারে তার একটা ধারণা সাংবাদিকদের দিয়েছেন। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের নিয়ে বিস্ময়কর মন্তব্য করে আবারও আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। যদিও রাতেই বিসিবি এমন মন্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এর দায়ভার নেয়নি।
বিশ্বকাপে না খেললে কতটা আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের? এমন প্রশ্ন অনেকের মনে। তবে নাজমুল বলছেন কোনও ক্ষতি নেই।
ধারণা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ফি হিসেবে আইসিসির কাছ থেকে এরই মধ্যে ৫ লাখ ডলার বা ৬১ কোটি টাকা পেয়ে গেছে বিসিবি। এর বাইরে বিশ্বকাপের জন্য আইসিসির কাছ থেকে বিসিবির আর কিছু পাওয়ার নেই।
এক প্রশ্নে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আইসিসি থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশ ২০ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার পায়। এ ছাড়া আইসিসির রিজার্ভ মানি থেকে চার বছর পর পায় ৪ মিলিয়ন ডলার।
আর্থিক ক্ষতি বিসিবির না হলেও হবে ক্রিকেটারদের। বিশ্বকাপে না খেললে প্রাইজমানি এবং ম্যাচ ফি পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
এমন প্রশ্নে নাজমুলের কড়া উত্তর, ‘ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পিছে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কী ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি!’
আরেক প্রশ্নে তার মন্তব্য, ‘আমরা যে ওদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত আমরা একটাও বৈশ্বিক অ্যাওয়ার্ড পেতে পেরেছি? কোনও একটা জায়গায় আমরা কতটুকু কী করতে পারছি? আমরা তাহলে তো প্রত্যেকবারই বলতে পারি, তোমরা খেলতে পারোনি, তোমাদের পেছনে যা খরচ করেছি, এটা এবার তোমাদের কাছ থেকে আমরা নিতে থাকি, ফেরত দাও।’
তবে রাতেই বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছে।
বিসিবির ভাষ্য, বোর্ড এমন সব মন্তব্যের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে যা কাম্য নয়, আপত্তিকর বা বেদনাদায়ক। এ ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মূল্যবোধ, আদর্শ বা দাফতরিক অবস্থানের প্রতিফলন নয়; এমনকি বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আচরণবিধির সঙ্গেও এটি সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিসিবি আবারও নিশ্চিত করছে যে, বোর্ডের মনোনীত মুখপাত্র বা মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও পরিচালক বা বোর্ড সদস্যের দেওয়া কোনও বক্তব্যের দায়ভার বোর্ড গ্রহণ করবে না। এই নির্ধারিত মাধ্যমগুলোর বাইরে দেওয়া যেকোনো বক্তব্য একান্তই ব্যক্তিগত এবং সেটিকে বোর্ডের মতামত বা নীতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এটিও স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, কোনও ব্যক্তির আচরণ বা মন্তব্য যদি ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে অথবা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুনাম ও অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করে, তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিসিবি খেলোয়াড়দের স্বার্থ, মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় এবং ক্রিকেটের সব স্তরে পেশাদারত্ব, দায়বদ্ধতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।








