একসময় যাদের নাম শুনলে প্রতিপক্ষের মনে ভয় ধরে যেত, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের এখন বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার পথটা কঠিন হয়ে পড়েছে!
দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আবারও ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার দ্বারপ্রান্তে। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করতে প্রায় ব্যর্থ হওয়ায় টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে তাদের সামনে এখন কোয়ালিফায়ারের কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
সাম্প্রতিক ধাক্কাটা এসেছে আফগানিস্তানের হাত ধরে। চলমান পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে আফগানরা।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে থেকেই র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটের বাইরে ছিল। আফগানিস্তানের এই জয় কার্যত তাদের সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাকে প্রায় শেষ করে দিয়েছে।
২০২৭ বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। বাকি আটটি সরাসরি জায়গা নির্ধারিত হবে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। আর সেই হিসাব মেলানোর শেষ তারিখটি ৩০ সেপ্টেম্বর।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে নেমে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের ওপরে ছিল বাংলাদেশ। যারা নবম স্থানে, আর আফগানিস্তান ছিল অষ্টম স্থানে।
অর্থাৎ, বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট পেতে হলে ক্যারিবীয়দের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ। আর সেই সমীকরণ আরও কঠিন করে দিয়েছে আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড সিরিজ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আয়ারল্যান্ডকে প্রায় নিখুঁত একটি সিরিজ খেলতে হতো। এমনকি পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৫-০ ব্যবধানে জেতার মতো অসাধারণ ফলও প্রয়োজন ছিল তাদের। কিন্তু প্রথম ওয়ানডেই বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় আয়ারল্যান্ডের সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।
এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে আগুন ঝরান রশিদ খান। তার ৬ উইকেট শিকারে মাত্র ৩৪ রান খরচ করে আফগানিস্তান ম্যাচটি জিতে নেয়। আর সেই জয়ই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ-সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে এখন ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়াবে ২৭ সেপ্টেম্বর। তার মানে দাঁড়াচ্ছে বিশ্বকাপ র্যাঙ্কিংয়ের চূড়ান্ত সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজই হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য শেষ বড় মঞ্চ।









