অস্ট্রেলিয়ায় আগস্ট মাস সাধারণত ক্রিকেটের সময় নয়। কিন্তু এবার সেই চেনা চিত্র বদলে যাচ্ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যখন অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের দখলে মাঠ, তখন উত্তরের শুষ্ক মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে একেবারে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পরিবেশে বসেছে টেস্টের আসর। আর সেই অস্বাভাবিক সূচির কেন্দ্রে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আজ টেস্ট খেলতে নেমেছে টাইগাররা।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ দিয়ে অস্ট্রেলিয়া শুরু করছে টেস্ট ক্রিকেটের এক ব্যস্ত বছর। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের স্টেডিয়ামগুলো বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের জন্য ব্যবহৃত হওয়ায় ডারউইনের মারারা ওভাল টেস্ট আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে। ২০০৪ সালের পর এই মাঠে আবারও ফিরেছে সাদা পোশাকের ক্রিকেট। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক করবে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন টেস্টে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়, এবার সেই চিত্র কিছুটা ভিন্ন হবে। কারণ এটি হবে দুই দশকেরও বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শীতকালীন টেস্ট সিরিজ। তবে উত্তরের অঞ্চলের গরম ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ক্রিকেটারদের পরিচিত অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনের অনুভূতি দিতে পারে। ডারউইনের মারারা ওভালে প্রায় ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিসবেন থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কয়লা ও চিনি বন্দরনগরী ম্যাকাইর ভেন্যুতে প্রায় ১০ হাজার দর্শক বসতে পারবেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে আগস্টেই কেন এই টেস্ট? এর পেছনে রয়েছে বাণিজ্যিক বাস্তবতা এবং ঠাসা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট-সূচি।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি মূলত ২০২৭ সালের মার্চে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ১৫০তম টেস্ট উপলক্ষে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের জন্য সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। সেই কারণেই বাংলাদেশ সিরিজটি এগিয়ে এনে এবার আগস্টে আয়োজন করা হচ্ছে। আর অস্ট্রেলিয়ার উত্তরে আগস্টের আবহাওয়াও এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ডারউইন ও ম্যাকাইতে ক্রিকেট আয়োজন তুলনামূলক সুবিধাজনক হওয়ায় দক্ষিণের ব্যস্ত ক্রীড়াসূচির বিকল্প হিসেবে উত্তরের এই দুই শহরকে বেছে নেওয়া হয়েছে।








